
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে দরবার শরিফের পীর আবদুর রহমান ওরফে ‘শামীম বাবা’ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রায় ১৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান শুরু করেছে।
নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ফিলিপনগর গ্রামের বাসিন্দা রাজীব দফাদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ইতোমধ্যে অন্তত ১৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল দুপুরে পীর আবদুর রহমান তার দরবার শরিফে অবস্থানকালে একদল লোক সংঘবদ্ধভাবে সেখানে হামলা চালায়। হামলাকারীরা দরবারে ভাঙচুর করে এবং পরে পীরকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়। এ সময় দরবারের এক নারী পরিচারিকাও আহত হন।
হামলার সময় দরবার শরিফে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ও মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। তবে ওই ভিডিওর সঙ্গে নিহতের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না বলেও তারা দাবি করেন।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।