
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে দরবারপ্রধান আব্দুর রহমান শামীম হত্যা মামলার ছয় দিন পার হলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও প্রায় ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিও রয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, মামলায় নাম থাকা কয়েকজনকে প্রকাশ্যে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যাচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, “মামলার পরও আসামিরা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছে, এতে করে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।” জানা গেছে, প্রধান অভিযুক্তদের একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও বার্তা দিয়ে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে, আরেক আসামিকে স্থানীয় একটি মসজিদে দায়িত্ব পালন করতেও দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে এবং অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ফিলিপনগরে মাদ্রাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজেদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, দৌলতপুর উপজেলা শাখা। শুক্রবার সকালে উপজেলা সদরে মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে দলটির নেতারা দাবি করেন, তাদের দলের কোনো নেতাকর্মী সহিংসতার সঙ্গে জড়িত নন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, প্রকৃত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং নির্দোষ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় তারা আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।
অন্যদিকে সচেতন মহল প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, দ্রুত প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হোক। তারা মনে করেন, কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পুরোনো ভিডিওকে কেন্দ্র করে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গত শনিবার দৌলতপুরের ফিলিপনগর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দরবার শরীফে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে এবং ওই ঘটনার মধ্যে দরবারপ্রধান আব্দুর রহমান শামীম নিহত হন।