April 24, 2026, 3:03 am
শিরোনাম :
ধামইরহাটে পুলিশের অভিযানে ৬৫০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার ও ধ্বংস কালিগঞ্জের ডিআরএম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার বরখাস্ত শান্তিগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন, সপ্তাহজুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি তীব্র গরমে অভিভাবকদের পাশে দাঁড়ালেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীন মাহমুদ ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে চলা তাপস্বীর পাশে জেলা পরিষদ বাগমারায় ৭ মাসের শিশুকে নিয়ে নিখোঁজ গৃহবধূ, উৎকণ্ঠায় পরিবার শিবগঞ্জে টানা চুরির ঘটনায় আতঙ্ক, চার দিনে ১৩ বাড়িতে সিঁধ কাটা মান্দায় জমি বিরোধে সাত বিঘার বোরো ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ ব্যবসা নিয়ে সংঘর্ষ মামলায় এনায়েতনগর যুবদলের তিন নেতা জামিনে মুক্তির পথে সিংগাইরে নারীর মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় পুলিশ

রামপালে বিশুদ্ধ পানির সংকট ভয়াবহ: লবণাক্ততা ও অব্যবস্থাপনায় জনজীবন বিপর্যস্ত

অভয়নগর প্রতিবেদক

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। নিরাপদ পানির নির্ভরযোগ্য উৎসের অভাবে বহু পরিবার এখন পুকুরের পানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তবে এসব পানি প্রয়োজনের তুলনায় যেমন অপ্রতুল, তেমনি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা স্বাস্থ্যসম্মত নয়। ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আধুনিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে সংকট চরমে পৌঁছায়, যখন বিকল্প কোনো উৎস না থাকায় মানুষ বাধ্য হয়ে অনিরাপদ ও লবণাক্ত পানি ব্যবহার করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট এখন নীরব দুর্যোগে রূপ নিচ্ছে। চৈত্র ও বৈশাখ মাসে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পানির চাহিদা বাড়লেও সরবরাহ থাকে সীমিত। ফলে দূষিত ও লবণাক্ত পানি ব্যবহারের কারণে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েড, চর্মরোগসহ নানা রোগের প্রকোপ বাড়ছে। দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত লবণাক্ত পানি গ্রহণে কিডনি জটিলতা ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। শিশু ও গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
বৃষ্টির পানি সংরক্ষণেও রয়েছে বড় ঘাটতি। এলাকাটিতে পর্যাপ্ত সরকারি জলাধার বা বড় সংরক্ষণ ট্যাংকি না থাকায় বর্ষার পানি সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাদ্দকৃত প্রকল্পের অর্থ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত না হয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে অপচয় বা অনিয়মের শিকার হচ্ছে।
সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে কিছু লবণাক্ততা দূরীকরণ প্লান্ট (RO Plant) স্থাপন করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অধিকাংশ মানুষ এখনো এসব সুবিধার বাইরে রয়ে গেছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত চিংড়ি ঘেরের কারণে পানিতে লবণাক্ততা ক্রমাগত বাড়ছে।
নিরাপদ পানির দাবিতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো নিয়মিত মানববন্ধন, গণশুনানি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, পানির জন্য প্রতিদিন দূর-দূরান্তে যেতে হয়, এতে সময় ও শ্রম নষ্ট হচ্ছে। লবণাক্ত পানি ব্যবহারের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। তারা আর আশ্বাস নয়, বাস্তবসম্মত সমাধান চান।
স্থানীয়দের দাবি, সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে পর্যাপ্ত RO প্লান্ট স্থাপন, বড় আকারের বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ প্রকল্প, আধুনিক পানি পরিশোধন ব্যবস্থা চালু, পুকুর ও জলাধার পুনঃখনন, চিংড়ি ঘের নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই সমন্বিত ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ না করলে রামপালের এই পানি সংকট ভবিষ্যতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।



ফেসবুক কর্নার