
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী সেবার চেয়ে প্রশাসনিক সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ওয়ার্ডে রোগীরা অন্ধকার ও গরমে কষ্ট পেলেও প্রশাসনিক কক্ষগুলোতে সোলার বিদ্যুতের ফ্যান ও লাইট সচল থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
৫০ শয্যার এ হাসপাতালে প্রায়ই লোডশেডিং দেখা দেয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যুৎ চলে গেলে জরুরি বিভাগ ও সাধারণ ওয়ার্ড অন্ধকার হয়ে পড়ে। সোলার সিস্টেমের সীমিত আলো থাকলেও ফ্যান চালু থাকে না। ফলে রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। অন্যদিকে একই সময়ে প্রশাসনিক কক্ষগুলোতে ফ্যান-লাইট স্বাভাবিকভাবে চলতে দেখা যায়।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদের স্বজনরা জানান, তীব্র গরমে অনেক সময় হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হচ্ছে। ৭৯ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ ও শিশু রোগীদের কষ্টের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। তারা প্রশ্ন তোলেন, হাসপাতালের সুবিধা কি রোগীদের জন্য, নাকি শুধু কর্মকর্তাদের জন্য?
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও তা নিয়মিত চালু করা হয় না। রাতে কিছু সময় চালানো হলেও দিনের বেলায় তা বন্ধ রাখা হয়। ফলে দিনের বেলাতেই রোগীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েন।
একজন হাসপাতাল কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জেনারেটর মূলত অফিসকেন্দ্রিকভাবে ব্যবহার করা হয়, যা রোগী সেবার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য তৈরি করছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, জেনারেটর সচল রয়েছে, তবে জ্বালানি সাশ্রয়ের কারণে দিনে তা চালানো সম্ভব হয় না। সোলার সিস্টেমের সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় তা অফিস ব্যবস্থাপনায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সীমিত বিদ্যুৎ থাকলে সেটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রোগীদের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে না কেন? একটি সরকারি হাসপাতালের মূল উদ্দেশ্য যেখানে রোগী সেবা নিশ্চিত করা, সেখানে এমন বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা কতটা যৌক্তিক—এ প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সোলার সংযোগ ওয়ার্ডে সম্প্রসারণ, জেনারেটর ব্যবহারে স্বচ্ছতা এবং হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।