
বাংলাদেশ স্কাউটের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ে অনিয়ম, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটি মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) নগরীর রূপাতলীতে অবস্থিত আঞ্চলিক কার্যালয়ে গিয়ে কমিটির সদস্যরা অভিযোগকারীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেন। সকাল ১০টার দিকে সাবেক অধ্যক্ষ মো. আবদুর রবের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত দল কার্যালয়ে উপস্থিত হয়।
এ সময় অভিযুক্ত আঞ্চলিক কমিশনার দেবাশীষ হালদার, সম্পাদক ফারুক আলম ও কোষাধ্যক্ষ এস এম জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কর্মকর্তারা। পাশাপাশি লিখিত অভিযোগ দাখিলকারী সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন এবং লিডার ট্রেইনার ও প্রধান শিক্ষক কাজী ফাহিমা আক্তার মুন্নির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এছাড়া আরও কয়েকজন স্কাউট ট্রেইনার মৌখিকভাবে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন।
অভিযোগে বলা হয়, গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে বিতর্কিত ব্যক্তিদের কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে কাজ সম্পাদন করা হয়েছে। এসব বিষয় তদন্ত কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান অভিযোগকারী রুহুল আমিন।
অন্যদিকে, কাজী ফাহিমা আক্তার মুন্নি দাবি করেন, বর্তমান কমিটি নথিপত্রে অসঙ্গতি তৈরি করে অভিযোগ খণ্ডনের চেষ্টা করছে। তিনি আরও বলেন, প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ থাকা পরিচালক সাইফুল ইসলামের বক্তব্য এখনো নেওয়া হয়নি।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. আবদুর রব বলেন, প্রাথমিকভাবে কয়েকজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযোগগুলো প্রমাণের ভিত্তিতে যাচাই-বাছাই করা হবে। পরিচালক সাইফুল ইসলাম বর্তমানে বরিশালে না থাকায় তার বক্তব্য এখনো নেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত সোমবার আঞ্চলিক নির্বাহী কমিটির সভাপতির নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ ওঠার পর পরিচালক সাইফুল ইসলামকে বরিশাল কার্যালয় থেকে সরিয়ে প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যালয়ে আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।