
বিতর্কিত মন্তব্য ও একাধিক মানহানির মামলার প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জের একটি আদালত এ আদেশ দেন বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
আদালত সূত্র জানায়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে একাধিক মানহানির মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় আদালত থেকে সমন জারি করা হলেও তিনি তা অনুসরণ না করায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার বাদী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল বলেন, একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন মন্তব্য মানহানিকর হওয়ায় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসকের বদলি নিয়ে করা একটি বক্তব্য নিয়েও নতুন করে বিতর্কে জড়ান এমপি আমির হামজা। গত ২৭ মার্চ জুমার খুতবার আগে এক বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, বর্তমান জেলা প্রশাসক বিপুল অর্থ ব্যয় করে কুষ্টিয়ায় বদলি হয়ে এসেছেন। এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল তার বিরুদ্ধে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে বলা হয়, তার বক্তব্যে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়।
এর আগেও একই ধরনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পৃথক একটি মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০০ কোটি টাকা দাবি করা হয়। ওই মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)কে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ধারাবাহিক বিতর্কিত মন্তব্য ও মামলার জেরে এমপি আমির হামজার আইনি জটিলতা আরও বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।