
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। আগামী ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলবে।
এ বছরের প্রতিপাদ্য “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ”। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইকবাল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনে সুষম খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। শুধু পেটভরা খাবার নয়, খাদ্যের পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি শিশু, কিশোর-কিশোরী ও গর্ভবতী নারীদের পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং পুষ্টিকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তারিক জামিল অপু প্রজেক্টরের মাধ্যমে পুষ্টির বিভিন্ন উপাদান, অপুষ্টির ঝুঁকি ও বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। এতে অংশগ্রহণকারীরা পুষ্টি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক ডা. সৈকত দাস, শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. অলি উল্লাহ, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন মায়া, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন তালুকদার, এসআই নবেল সরকার, শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল কবির, উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অফিস সহকারী এনামুল হক এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মো. আবু উবায়দাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাস্তবায়নে কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে। এতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ, সেভ দ্য চিলড্রেন এবং ওয়ার্ল্ড ভিশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় উন্নয়ন সংস্থা সহযোগিতা করছে।
সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পুষ্টি বিষয়ক পরামর্শ প্রদান, কুইজ প্রতিযোগিতা, এতিমখানায় পুষ্টিকর খাবার বিতরণ, আলোচনা সভা, সেমিনার এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির নানা উদ্যোগ। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ কর্মসূচি পুষ্টি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টি বৈষম্য হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।