ঝিনাইদহ শহরের ব্যস্ততম সড়কগুলোতে যানজট নিরসন, দুর্ঘটনা রোধ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে নেমেছে জেলা ট্রাফিক বিভাগ। এখন থেকে বৈধ কাগজপত্র ও হেলমেট বিহীন মোটরসাইকেল বা অন্যান্য যানবাহন চালালে গুণতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। ট্রাফিক বিভাগের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—নিয়ম লঙ্গনকারীদের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার সুপারিশ বা ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
ট্রাফিক কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সড়কে লাইসেন্সবিহীন চালক এবং ফিটনেসবিহীন যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে দ্রুতগতির বাইক ও নিয়ম না মানার প্রবণতা থেকে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ যানবাহন ব্যবহার করে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। এসব নিয়ন্ত্রণে আনতেই এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।অভিযান পরিচালনাকারী একজন ট্রাফিক কর্মকর্তা জানান:
”আমাদের মূল লক্ষ্য কাউকে হয়রানি করা নয়, বরং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা। যারা নিয়ম মেনে বৈধ কাগজপত্র নিয়ে রাস্তায় বের হবেন, তাদের ভয়ের কিছু নেই। তবে আইন অমান্য করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সড়কে জরিমানা ও আইনি ঝামেলা এড়াতে প্রত্যেক চালককে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে:
• বৈধ লাইসেন্স ও ব্লু-বুক: চালকের নিজস্ব ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং যানবাহনের হালনাগাদ রেজিস্ট্রেশন পেপার সাথে রাখতে হবে।
• হেলমেট ব্যবহার: মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী উভয়ের জন্য মানসম্মত হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক।
• ফিটনেস ও ইনস্যুরেন্স: পরিবহনের ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং প্রয়োজনীয় বীমার কাগজ সঠিক থাকতে হবে।
• ট্রাফিক সিগন্যাল মানা: যত্রতত্র পার্কিং পরিহার করে নির্ধারিত ট্রাফিক আইন ও সিগন্যাল মেনে চলতে হবে।
সড়ক দুর্ঘটনা আপনার ও আপনার পরিবারের সারাজীবনের কান্না হতে পারে। ট্রাফিক পুলিশের এই উদ্যোগকে সফল করতে নাগরিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। আসুন, ট্রাফিক আইন নিজে মানি এবং অন্যকে মানতে উৎসাহিত করি। একটি সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ ঝিনাইদহ গড়তে ট্রাফিক বিভাগকে সহযোগিতা করুন।
নিরাপদ সড়ক, নিরাপদ জীবন।