May 17, 2026, 8:40 am
শিরোনাম :
ধামরাইয়ে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর নতুন কমিটি গঠন, সড়ক সচেতনতায় জোর হাওরাঞ্চলের সংকট সমাধানে স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, চেয়ারম্যানের পোস্ট ভাইরাল শ্যামনগরে চাঁদাবাজির অভিযোগে আবারো আলোচনায়, বিএনপি মিঠু: তৃণমূলে ক্ষোভ নাটোরে জমি বিরোধে চাচাতো ভাইদের হামলায় যুবক নিহত সুবর্ণচরে জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত ৯৫ বস্তা চাল জব্দ বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে জটিলতা, জলাতঙ্কের টিকা সংকটে বাড়ছে জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের অভিযানে ভারতীয় প্রসাধনী ও বসুমতী চাল জব্দ কালীগঞ্জে প্রবাসীর বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর মামলায় ৫ আসামি কারাগারে নরসিংদীতে ১০ কেজি গাঁজা ও ২৫০ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ মাদক বিক্রির নগদ টাকাও উদ্ধার করেছে পুলিশ মান্দায় সাপের কামড়ে বৃদ্ধার মৃত্যু

বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে জটিলতা, জলাতঙ্কের টিকা সংকটে বাড়ছে জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ

মুনতেশাম হোসেন স্টাফ রিপোর্টার ঢাকা

দেশজুড়ে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার সংকট এবং কুকুর নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে আইনি ও মানবাধিকারভিত্তিক সীমাবদ্ধতার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানী ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলা শহরে রাতে দলবদ্ধ কুকুরের আক্রমণাত্মক আচরণ এখন সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পথচারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং মোটরসাইকেল আরোহীরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, প্রাণী কল্যাণ আইন, প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তি এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার কারণে সরাসরি কুকুর নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে জন্মনিয়ন্ত্রণ ও টিকাদানভিত্তিক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকারিতা এখনও সীমিত বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে বাজার, হাসপাতাল এলাকা, বাসস্ট্যান্ড, আবাসিক সড়ক ও ময়লার ভাগাড়কেন্দ্রিক এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের আধিপত্য বাড়ছে। অনেক এলাকাবাসী জানিয়েছেন, রাতে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান বলেন, “রাতে বাসায় ফিরতে গেলে কুকুর তেড়ে আসে। আগে মাঝে মধ্যে সিটি করপোরেশন ব্যবস্থা নিত, এখন সেটাও চোখে পড়ে না।”
খুলনার বাসিন্দা শারমিন আক্তার বলেন, “স্কুলে যাওয়ার সময় কয়েকটি কুকুর আমার সন্তানের পেছনে ধাওয়া করে। এখন বাচ্চাদের একা বাইরে পাঠাতে ভয় লাগে।”
টিকার সংকটে বাড়ছে উদ্বেগ
পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকার স্বল্পতা। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ফলে অনেক রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা ফার্মেসি থেকে উচ্চমূল্যে টিকা সংগ্রহ করছেন।
চিকিৎসকদের মতে, জলাতঙ্ক একটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী রোগ। লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর রোগীকে বাঁচানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই কুকুরের কামড়ের পর দ্রুত ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু টিকা গ্রহণ করলেই সবসময় শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। অনেক সময় টিকা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না হওয়া, দেরিতে চিকিৎসা নেওয়া বা ক্ষতস্থানের সঠিক পরিচর্যা না হওয়ার কারণেও জটিলতা তৈরি হতে পারে। এছাড়া কুকুরের কামড় থেকে টিটেনাস, সেপসিস ও অন্যান্য সংক্রমণের ঝুঁকিও থাকে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা, কামড়ে আক্রান্ত মানুষের পরিসংখ্যান ও জলাতঙ্কে মৃত্যুর নির্ভরযোগ্য জাতীয় তথ্যভান্ডার না থাকায় সমস্যার প্রকৃত মাত্রা নিরূপণও কঠিন হয়ে পড়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ, কুকুরের জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।



ফেসবুক কর্নার