June 7, 2026, 7:41 pm
শিরোনাম :
বাকেরগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ, ৮৮ কিলোমিটারের মরণফাঁদ: রৌমারী-রাজীবপুরে জ্বলছে ক্ষোভ রামপালে বাজারে পচা মাংস বিক্রি: দুই ব্যবসায়ীর জেল-জরিমানা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে বৃদ্ধার মৃত্যু, তদন্তের আশ্বাস সিভিল সার্জনের ৪৬ যাত্রীর জীবন রক্ষায় প্রাণ দিলেন দুলাল, পাশে দাঁড়াল এসিআই মটরস রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য, পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ পরিবারের মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ আটক পুলিশ কনস্টেবল শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড ফসলি জমিতে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, হরিণাকুন্ডুতে ক্ষোভ কৃষকদের দৌলতদিয়ায় পদ্মায় বাসডুবি: চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার গ্রেপ্তার

অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ, ৮৮ কিলোমিটারের মরণফাঁদ: রৌমারী-রাজীবপুরে জ্বলছে ক্ষোভ

কে এম জাকিরুল ইসলাম
????????????

ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং, দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎহীনতা এবং তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন—কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় বিদ্যুৎ সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন মাত্র ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা রৌমারী সদর হাসপাতালে। বিদ্যুৎ না থাকায় ওয়ার্ডগুলোতে ফ্যান বন্ধ থাকছে, কষ্ট বাড়ছে রোগীদের। নবজাতক, বৃদ্ধ ও প্রসূতি মায়েরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি অফিসে অনলাইন সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

সংকটের মূল কারণ কী?

রৌমারী জোনাল অফিস (জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি) সূত্রে জানা গেছে, রৌমারী, রাজীবপুর, চিলমারী ও উলিপুরের আংশিক এলাকাসহ প্রায় ৮০ হাজার গ্রাহক এই সংকটের মুখে রয়েছেন।

কারিগরি তথ্য অনুযায়ী—

  • পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট, সরবরাহ মাত্র ৯ মেগাওয়াট।
  • অফ-পিক সময়ে চাহিদা ১৪ মেগাওয়াট, সরবরাহ ৭ মেগাওয়াট।
  • অর্থাৎ প্রয়োজনের অর্ধেক বিদ্যুৎ দিয়েই চলছে পুরো অঞ্চল।

এ ছাড়া শেরপুর গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে রৌমারী ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ৮৮ কিলোমিটার। এত দীর্ঘ সঞ্চালন লাইনের কারণে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ রৌমারীতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে কমে ২০ থেকে ২২ হাজার ভোল্টে নেমে আসে। ফলে লো-ভোল্টেজ ও ঘনঘন লোডশেডিং এখন নিত্যদিনের ঘটনা।

দুর্যোগে বাড়ে দুর্ভোগ

দীর্ঘ সঞ্চালন লাইন মাঠ, বিল ও দুর্গম এলাকা অতিক্রম করায় ঝড়-বৃষ্টি কিংবা যেকোনো ত্রুটি শনাক্ত ও মেরামতে দীর্ঘ সময় লাগে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

অর্থনীতি ও কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব

বিদ্যুৎ সংকটে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা কৃষি উৎপাদনের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুতের অনিশ্চয়তায় তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সম্ভাব্য সমাধান

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংকট নিরসনে তিনটি পদক্ষেপ জরুরি—

১. স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি।
২. ভোল্টেজ স্থিতিশীল রাখতে ক্যাপাসিটর প্ল্যান্ট স্থাপন।
৩. দ্রুত ত্রুটি শনাক্তে আধুনিক ফল্ট লোকেটর প্রযুক্তি ব্যবহার।

আশার আলো

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মোস্তাফিজুর রহমান (মোস্তাক) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এখন রৌমারী ও রাজীবপুরের লাখো মানুষের একটাই প্রত্যাশা—দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধান এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।



ফেসবুক কর্নার