June 18, 2026, 8:57 pm
শিরোনাম :
প্রবাসীর বউ নিয়ে গেল ‘জিনের বাদশা’ নিখোঁজের দুই দিন পর ৫ বছরের শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, আটক ৫ সিঙ্গাইরে কৃষিজমির মাটি কাটার অপরাধে কারাদণ্ড, এস্কেভেটর অকার্যকর ও দুই ট্রাক্টর জব্দ সব বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে: শিক্ষামন্ত্রী তিন বছর ধরে ফিটনেসবিহীন বাসে শিক্ষার্থী পরিবহন, ধামরাই সরকারি কলেজে উদ্বেগ বাগেরহাটে রামপালে সাংবাদিক ও সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তার ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় হামলা পটিয়ায় অপহরণের দুই দিন পর পাঁচ বছরের শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, আটক ৫ চার সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা মামলার নিন্দা জানাল বাংলাদেশ বার্তা সোসাইটি আনোয়ারায় মা-মেয়ে হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন: প্রধান আসামি গ্রেফতার, উদ্ধার হত্যার অস্ত্র ও মোবাইল ফোন বিশ্বকাপ অভিষেকেই স্পেনকে রুখে দিল কেপ ভার্দে, ইতিহাস গড়ল আফ্রিকার নবাগতরা

নিখোঁজের দুই দিন পর ৫ বছরের শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার, আটক ৫

অভয়নগর প্রতিবেদক

খেলার ছলে ঘরের বাইরে বের হয়েছিল পাঁচ বছরের ফুটফুটে শিশু মো. জায়হান। পরিবারের কেউ তখন কল্পনাও করতে পারেননি, এটাই হবে তার জীবনের শেষ বের হওয়া। মায়ের কোল, বাবার স্নেহ আর পরিবারের হাসি-কান্না ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেল অবুঝ শিশুটি।

চট্টগ্রামের পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দার খীল এলাকায় ঘটে যাওয়া এই হৃদয়বিদারক ঘটনা পুরো এলাকাকে শোকাহত করে তুলেছে। নিখোঁজের দুই দিন পর বৃহস্পতিবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে নিজ বাড়ির পাশের একটি ময়লার ভাগাড় থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশু জায়হানের নিথর মরদেহ।

নিহত জায়হান ওই এলাকার শাহজাহানের ছেলে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় জায়হান। এরপর শুরু হয় স্বজনদের নির্ঘুম অপেক্ষা ও প্রাণপণ খোঁজাখুঁজি। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। বুধবার বিকেলে বাবার শয়নকক্ষের বিছানায় পাওয়া যায় একটি রহস্যময় চিরকুট।

চিরকুটে লেখা ছিল, “তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে। ছেলেকে পেতে চাইলে আধা ঘণ্টার মধ্যে ৩ লাখ টাকা এবং পরিবারের যেকোনো একজনের মোবাইল আনলক করে একটি ব্যাগে ভরে বাড়ির সামনের রাস্তার পাশের ভাঙা দোকানের ভেতর রেখে দিবি।”

অবুঝ সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় যখন পরিবার দিশেহারা, ঠিক তখনই আসে সবচেয়ে নির্মম সংবাদ। ভোররাতে বাড়ির পাশের ময়লার ভাগাড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় পাওয়া যায় জায়হানের মরদেহ।

ঘটনার পরপরই পটিয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে আটক করেছে। কেন এই অবুঝ শিশুকে এমন নৃশংস পরিণতির শিকার হতে হলো, এর পেছনে শুধুই মুক্তিপণের লোভ নাকি অন্য কোনো শত্রুতা রয়েছে—তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এদিকে শিশু জায়হানের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না, প্রতিবেশীদের আহাজারি আর একটিই প্রশ্ন—একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রতি এমন নির্মমতা কীভাবে সম্ভব?

স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারের বুক এভাবে খালি না হয় এবং কোনো মা-বাবাকে সন্তানের বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে না হয়।



ফেসবুক কর্নার