
বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার মল্লিকের বেড় ইউনিয়নে সন্নাসী বাজারে এ হামলার ঘঠনা ঘটে,
ভুক্তভোগী সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার অভিযোগ করে বলেন
মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের কথিত বিএনপি নেতা ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সংঘটিত হামলার শিকার হোন,
উক্ত ঘঠনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এক সাংবাদিক, নৌবাহিনীর সাবেক এক লেফটেন্যান্ট কমান্ডারসহ অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। স্থানীয় সাংবাদিক হামলার সময় নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রেস কার্ড প্রদর্শন করার পরও অতর্কিতভাবে হামলা করে, হামলার শিকার সাংবাদিক জাতীয় দৈনিক অভয়নগর পত্রিকার বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি ও আইপি টেলিভিশন চ্যানেল ২১এর বাগেরহাট প্রতিনিধি,
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ বুধবার বিকেলে ৪টার সময় মল্লিকের বেড় ইউনিয়নের সন্নাসী বাজার এলাকায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র বাহিনী লাঠিসোঁটা,রড,ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ঘরবাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সাংবাদিকরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকের উপড় ও হামলার চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এতে এক সাংবাদিক গুরুতর আহত হন।
একই ঘটনায় নৌবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ফারজানাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
তাকে লোহার রড় হাতরি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে টেনে হ্যাচরে রাস্তার পাশে থাকা জঙ্গলের ভিতরে নিয়ে যায় সেখানে গাছের সঙ্গে বেঁধে হামলা চালায়, এবং গলায় ওড়না পেচিয়ে বার বার শ্বাস রোধ করার চেষ্টা করলে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলার শিকার অন্য ব্যাক্তি হলেন সাবে নৌবাহিনী কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ফারজানা আক্তারের মা
তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে লোহার রডের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে।
আহত নৌ কর্মকর্তা বলেন, “আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছে। প্রথমে আমাকে ঘিরে ফেলে মারধর করা হয়। পরে গলায় ফাঁস দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়েছে এবং লোহার রড় দিয়ে পা থেকে মাথা পর্যন্ত পিটিয়ে রক্তাক্ত যখম করেছে। হামলার সময় আমার গলার স্বর্ণের চেইন, হাতের থাকা স্বর্ণের ব্যাচলেট ওডায়মন্ডের আংটি ও সঙ্গে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।”
আরেক ভুক্তভোগী জানান, হামলাকারীরা শুধু মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত সবাইকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং কেউ মুখ খুললে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, আহতদের আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীদের ভয়ে কেউ ভূক্তভুগীদের সাহায্য করতে পারে নাই,হামলা কারীরা এতটাই বেপরোয়া ছিলো যে নৌবাহিনীর কমান্ডার ফারজানা আক্তার এর মা ৭০বছর বয়সি বৃদ্ধাকে বেদরক মারার পরে বিবস্ত্র করে স্থানীয়দের সামনে পাকা সড়কের উপড় টেনে হ্যাচরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে,
পরবর্তিতে পুলিশ আসার সংবাদ পেয়ে হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের ফেলে রেখে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
হামলার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ভুক্তভোগী সাবেক নৌকর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন সন্ন্যাসী বাজার আমার পৈতৃক বাড়িতে স্থানীয় কয়েকজনকে ভাড়ার বিনিময়ে থাকতে দেই তারা দীর্ঘ দিন যাবৎ ভাড়াটিয়া হিসেবে থেকে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন,
আমি যখন জানতে পারি আমার পৈতৃক বাড়িতে মাদকের আস্তানা হিসেবে পরিচিত হয়েছে এবং মাদক বড় চালান এখান থেকেই বাগেরহাটের বিভিন্ন জায়গায় যায়,তখন আমি ভাড়াটিয়াদের নামিয়ে দিতে চাইলেই বাঁধে বিপত্তি,, আমি যখন প্রতিবাদ করে বলি আমার বাড়িতে থেকে মাদক ব্যবসা করা যাবে না,
এছাড়া আমি ঘোষনা করি আমার বাবার সম্পত্তির উপড় একটি আধুনিক ও উন্নতমানের হাসপাতাল তৈরি করবো তখন থেকেই চিহ্নিত সন্ত্রাসী জাহিদুল বিভিন্নভাবে আমার কাছে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে, আমি চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় আমাকে দেখে নেওয়া হুমকি দেয় এবং আমার উপর বর্বরোচিত হামলা করে,
পরে স্থানীয়রা আহতদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
বাগেরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের স্বজনরা জানান, আহতদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানান।
চিকিৎসকরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জোরপূর্বক মানুষের ঘের দখল, দোকানপাট দখল সহ সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রভাব খাটানোসহ নানা অভিযোগ রয়েছে জাহিদের বিরুদ্ধে দাবি করেন স্থানীয়রা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জাহিদুল ইসলামের জানতে চাইলে সে বলেন এসব সাধারন ঘনা এ বিষয়ে কথা বলার মত সময় আমার নেই আপনারা যা খুশি করতে পারেন আমি কাউকে পরওয়া করি না,
ঘটনার পর পুরো মল্লিকের বেড় ইউনিয়নে উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এমন ঘটনায় তারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে এলাকায় আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এদিকে স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তি আক্রমণ নয়, এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও তথ্যপ্রবাহের ওপরও আঘাত। একই সঙ্গে একজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনাও অত্যন্ত নিন্দনীয়।
তারা অবিলম্বে হামলার মূল হোতা জাহিদুল ইসলামসহ জড়িত সকল ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ জানায়, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি জচলছিল। তবে ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা গেছে,
উক্ত ঘঠনার বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার চিকিৎসা শেষে আইনের আশ্রয় নেবেন বলে জানা গেছে,