সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অফিসের কমিউনিটি অর্গানাইজার (সিও) রেজাওয়ানুল ইসলাম রেজার বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির পাশাপাশি ঠিকাদারি কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং এলসিএস (লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি) কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহার আগ থেকেই রেজাওয়ানুল ইসলাম রেজা নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর পাওয়া যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, তার অনুপস্থিতিতে জাইকা প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী রিমন হোসেন নিয়মিত হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে দিতেন।
অফিসের দুই কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, রেজাওয়ানুল ইসলাম রেজার অনুপস্থিতিতেও প্রতিদিন হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর দেওয়া হতো। তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী প্রকৌশলী রিমন হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গত ১৬ জুন দুপুরে সরেজমিনে এলজিইডি কার্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় ওই দিনের পাশাপাশি পরদিন ১৭ জুনের তারিখেও রেজাওয়ানুল ইসলাম রেজার স্বাক্ষর দেখা যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে রেজাওয়ানুল ইসলাম রেজার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেন। এ সময় রেজা নিজেকে সাতক্ষীরা শহরে অবস্থান করছেন বলে জানান।
পরদিন ১৭ জুন উপজেলা প্রকৌশলীর উপস্থিতিতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেজাওয়ানুল ইসলাম রেজা অফিসে উপস্থিত না থেকেও নিজেই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন বলে দাবি করেন। তবে অভিযোগের সত্যতা জানার পরও উপজেলা প্রকৌশলী তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, রেজাওয়ানুল ইসলাম রেজা মাস শেষে এলসিএস কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত কাজের সময়ই মূলত অফিসে উপস্থিত হন। এলসিএসের কয়েকজন নারী কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, ব্যাংক হিসাব খোলার কথা বলে তাদের কাছ থেকে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেতন দেওয়ার সময় অতিরিক্ত অর্থ বা উপঢৌকন নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
তবে রেজাওয়ানুল ইসলাম রেজা তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর তিনি নিজেই করেছেন এবং এলসিএস কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও সঠিক নয়।
সরকারি চাকরির আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে হাজিরা প্রদান বাধ্যতামূলক। বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থেকে হাজিরা দেওয়া বা স্বাক্ষর করা শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে গণ্য হয় এবং এ ধরনের ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে কারণ দর্শানোর নোটিশ, সাময়িক বরখাস্ত, বদলি কিংবা অনুপস্থিত সময়ের বেতন কর্তনের বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।”