July 10, 2026, 7:31 pm
শিরোনাম :

বাংলা ব্লকেড থেকে গণঅভ্যুত্থানের পথে: ১০ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক দিন

মোঃ ইসমাইল হোসেন

২০২৪ সালের ১১ জুলাই বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এদিন ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন গতি পায়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন, যার ফলে সারাদেশে যান চলাচল ও জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
আন্দোলনকারীরা সরকারি চাকরিতে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটা রেখে কোটাব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কার এবং এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের দাবি জানান। দাবি আদায় না হওয়ায় তারা পরদিন ১১ জুলাই আবারও বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে দেশব্যাপী ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। রাজধানীর শাহবাগে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
১১ জুলাই সকাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে সমবেত হন। পরে তারা শাহবাগ, বাংলামোটর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, মৎস্য ভবন, চানখাঁরপুল, বঙ্গবাজার, গুলিস্তান, সায়েন্সল্যাব, মহাখালীসহ রাজধানীর অন্তত ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরাও নিজ নিজ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করেন।
এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের কোটা-সংক্রান্ত রায়ের ওপর এক মাসের স্থিতাবস্থা জারি করে এবং পরবর্তী শুনানির জন্য ৭ আগস্ট তারিখ নির্ধারণ করেন। প্রধান বিচারপতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানালেও আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় রেলপথ অবরোধের ফলে সারাদেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার, রিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান চলাচলও ব্যাহত হয়।
রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, রংপুর, পাবনা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষার্থীরা একযোগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের অংশ হিসেবে এদিনও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ছাত্র ধর্মঘট পালন করা হয়।
সেদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে আন্দোলনকারীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
পরবর্তীতে এই ধারাবাহিক আন্দোলনই আরও বিস্তৃত হয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দিকে এগিয়ে যায় এবং দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় সৃষ্টি করে।



ফেসবুক কর্নার