
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, রাঙামাটিতে চলমান দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন এনজিওর ঋণের কিস্তি আদায় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী মাসে এসব ঋণের ওপর অতিরিক্ত সুদ আরোপ না হয়, সে বিষয়েও নজর রাখা হবে।
রোববার (১২ জুলাই) রাতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দিতেই আপাতত এনজিওর ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু কিস্তি আদায় স্থগিত রাখাই নয়, পরবর্তী মাসে যাতে ক্ষতিগ্রস্তদের ওপর অতিরিক্ত সুদের চাপ সৃষ্টি না হয় সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটিতে সড়ক, বিদ্যুৎ, কৃষি, মৎস্যসহ বিভিন্ন খাতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে পুনর্বাসন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। রাঙামাটিসহ পার্বত্য অঞ্চলের পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও দুর্ভোগ লাঘবে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এ সময় তিনি সবাইকে ধৈর্য ও সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলার আহ্বান জানান।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী ও রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটির পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব, জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলার সার্বিক বন্যা ও পাহাড়ধস পরিস্থিতি এবং ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এর আগে প্রতিমন্ত্রী রাঙামাটি শহরের ওমদা মিয়া হিল পৌর জুনিয়র হাইস্কুল আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে আশ্রয় নেওয়া দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন।