August 4, 2026, 2:09 pm
শিরোনাম :
ফিরে দেখা ৩৫ জুলাই ‘মার্চ টু ঢাকা’ একদিন এগিয়ে, গণঅভ্যুত্থানের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ লাইসেন্সহীন সিএনজির দৌরাত্ম্য, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও অপরাধ রোমান্টিক ছবির সঙ্গে কী বার্তা দিলেন দেব-শুভশ্রী? ভারত থেকে আমদানিতে কাঁচা মরিচের দাম অর্ধেকের বেশি কমেছে ইয়াবাসহ ৪ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার চট্টগ্রাম সফরে হেফাজত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সানি লিওনকে কাস্ট করা ছিল কাকতালীয় ঘটনা’—মহেশ ভাট প্রকাশ্যে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, এলাকায় চাঞ্চল্য কুমারখালীতে চক্ষু হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অনিয়মের অভিযোগ ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণা, পাঁচ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

বোদা ইউএনওর বিরুদ্ধে পিপিআর লঙ্ঘনের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস জেলা প্রশাসনের

স্নিগ্ধা খন্দকার, স্টাফ রিপোর্টার | পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) অনুসরণ না করে টেন্ডার ছাড়া উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ১ কোটি ৪১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে উপজেলা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অফিস, সরকারি বাসভবন, গ্যারেজ, অভ্যন্তরীণ ড্রেন, রাস্তা ও ঘাটলা মেরামতের জন্য ৫০ লাখ টাকা, অনগ্রসর উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা খাতে ৫০ লাখ টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) চতুর্থ কিস্তিতে ৪১ লাখ ৬৩ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরকারি বিধি ও পিপিআর অনুযায়ী এসব অর্থ ব্যয় করার কথা।
স্থানীয় কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, কোনো ধরনের উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান না করে ইউএনও নিজেই নির্মাণসামগ্রী ক্রয় ও শ্রমিক নিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করছেন। এতে তারা দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারও সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা হারিয়েছে বলে দাবি করেন।
সূত্র জানায়, বরাদ্দের অর্থ দিয়ে উপজেলা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অফিস ও সরকারি বাসভবন, গ্যারেজ, অভ্যন্তরীণ ড্রেন, ঘাটলা, শিশু পার্ক সংস্কার, অডিটোরিয়ামে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) যন্ত্র স্থাপন, রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা শিশু পার্কে লেক নির্মাণ, খেলাধুলার বিভিন্ন সরঞ্জাম স্থাপন ও সংস্কার, ইউএনওর সরকারি গাড়ির গ্যারেজ, চালকের কক্ষ নির্মাণ এবং অডিটোরিয়ামে এসি স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
নির্মাণশ্রমিক মালাকার প্রদীপ বলেন, শিশু পার্কের গেট, লেকের কারুকাজ ও সংস্কারকাজের জন্য ইউএনওর সঙ্গে এক লাখ টাকায় চুক্তি হয়েছে এবং তিনি প্রায় ২০ দিন ধরে কাজ করছেন।
আরেক শ্রমিক রশিদুল ইসলাম জানান, ইউএনওর গাড়ির গ্যারেজ, চালকের কক্ষ, পার্কের সংস্কার ও লেক নির্মাণকাজে তিনি প্রায় দেড় মাস ধরে দৈনিক মজুরিভিত্তিক কাজ করছেন। তার দাবি, মজুরি প্রশাসনিক কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী জগবন্ধু রায় বলেন, বিশেষ বরাদ্দের অর্থের বিষয়ে ইউএনও কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন। এ কাজে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “আমাদের নিজেরা কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। সব কাজ সরকারি বিধি অনুযায়ী হয়েছে। পিআইসি, আরএফকিউ অথবা টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররাই কাজ করছেন।”
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



ফেসবুক কর্নার