
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার একটি বেসরকারি চক্ষু হাসপাতালের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল সংকট এবং অস্ত্রোপচার-সংক্রান্ত গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের দাবি, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে এক বৃদ্ধার চোখের দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক শিশুর চোখের অবস্থারও অবনতি হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০ শয্যার অনুমোদনপ্রাপ্ত বিশ্বাস কমিউনিটি চক্ষু হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আবাসিক চিকিৎসক ও জনবল ছাড়াই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কাগজে-কলমে একাধিক চিকিৎসকের নাম থাকলেও বাস্তবে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন মাত্র একজন। এছাড়া অস্ত্রোপচারের সময় স্বীকৃত অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের পরিবর্তে হাসপাতালের পরিচালক নিজেই রোগীকে অ্যানেস্থেসিয়ার ইনজেকশন দেন বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
অভিযোগকারী ডালিয়া খাতুন জানান, ছানি অস্ত্রোপচারের সময় হাসপাতালের পরিচালক নিজেই তাকে অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগ করেন। অস্ত্রোপচারের পর চোখে তীব্র ব্যথা, রক্তক্ষরণ এবং ভুল পাওয়ারের লেন্স বসানোর কারণে তার একটি চোখ প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও লেন্সের রসিদসহ প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানান তিনি।
কুমারখালীর বাসিন্দা লিটু অভিযোগ করেন, তার এক স্বজনের ছানি অস্ত্রোপচারের পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে হয়।
এদিকে গত ২৯ জুলাই ১০ বছর বয়সী শিশু রশনির চিকিৎসা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর শিশুটির চোখের অবস্থা আরও খারাপ হলে তাকে কুষ্টিয়ার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পূর্ববর্তী চিকিৎসা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে পরিবারের দাবি।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে হাসপাতালের পরিচালক মো. সুরুজ বিশ্বাস বলেন, “আমি কোনো চিকিৎসক নই, তাই অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমাদের হাসপাতালে নিয়মিত ছানি অস্ত্রোপচার করেন ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন মিলন এবং অ্যানেস্থেসিয়ার দায়িত্বে থাকেন ডা. খালেদ সাইফুল্লাহ।”
শিশু রশনির বিষয়ে তিনি বলেন, শিশুটির চোখে আঞ্জনি ছিল এবং সেটি ফেটে যাওয়ায় রক্ত বের হয়েছিল। পরে চিকিৎসক পুনরায় তাকে দেখেছেন এবং পরিবারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।
চিকিৎসক সংকটের অভিযোগ প্রসঙ্গে সুরুজ বিশ্বাস জানান, হাসপাতালে বর্তমানে তিনজন চিকিৎসক ও ছয়জন ডিপ্লোমা নার্স কর্মরত আছেন। এর মধ্যে একজন চিকিৎসক ছুটিতে রয়েছেন।
অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, সিভিল সার্জনের নির্দেশনার আলোকে সম্প্রতি হাসপাতালটির অপারেশন থিয়েটারে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আজই প্রথম এ বিষয়ে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। সরকারি দায়িত্বের বাইরে সময় মিললে আমি দায়িত্ব পালন করতে পারি। তবে এর আগে ওই হাসপাতালে পরিচালিত কোনো অস্ত্রোপচার বা অ্যানেস্থেসিয়ার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই যুক্ত ছিলাম না।”
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে এখনো আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”