August 4, 2026, 7:06 am

বিয়ের প্রলোভনে প্রবাসীর স্ত্রীরকে ধর্ষণের অভিযোগ

অভয়নগর প্রতিবেদক

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর করা গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। চার সন্তানের জননী পারভিন বেগম দিরাই উপজেলার করিমপুর ইউনিয়নের নতুন কর্ণগাঁও গ্রামের কাদির মিয়ার ছেলে লেচু মিয়ার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে
প্রতারণা, অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন, স্ত্রী পরিচয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ, আড়াই মাসের গর্ভপাত করানো এবং স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই পারভিন বেগম দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকা স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে লেচু মিয়া বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও অন্যান্য স্থানে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল এবং পরিচিতজনের বাসায় নিয়ে তার সঙ্গে একাধিকবার জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্তের কথায় বিশ্বাস করে তিনি নিজের কাছে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লেচু মিয়ার কাছে দেন। পরবর্তীতে বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে তিনি নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং একপর্যায়ে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্তের কারণে তার আড়াই মাসের গর্ভপাত ঘটে।

লিখিত অভিযোগের পর থেকেই পারভিন বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও বক্তব্য প্রকাশ করে তার অভিযোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ভিডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে জনমনে আলোচনা শুরু হয়।

অন্যদিকে, ২৫ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় লেচু মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

লেচু মিয়া আরও বলেন, আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আমার ব্যক্তিগত, সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে দিরাই থানা পুলিশ জানান,অভিযোগকারীর লিখিত আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য,এ ঘটনায় আনা অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে বা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলো অভিযোগকারী পক্ষের দাবি এবং অভিযুক্ত তা অস্বীকার করেছেন।



ফেসবুক কর্নার