
কাঠের ওপর সোজাসুজি বসানো ৩ ইঞ্চি লম্বা পেরেকের ওপর প্রায় ৫–৬ মিনিট শুয়ে দেখান তিনি। সে সময় তাঁর শরীরের ওপর ওঠেন আরও ৭ জন। তাঁর ওপর উঠে লাল-সবুজের বাংলাদেশের পতাকা প্রদর্শন করে এক শিশু। যা দেখে দর্শকদের চোখে রীতিমতো ধাঁধা লেগে যায়। বিশ্বাস করতে পারেন না—এটা মানুষ, নাকি লৌহমানব?
এ ধরনের অভিনব কলাকৌশল দেখালেও তাঁর শরীরে কোনো পেরেক বিদ্ধ হয়নি। পেরেকের ওপর থেকে নেমে উঠে দাঁড়ালে সাংবাদিকরা ক্যামেরা হাতে ছুটে যান মার্শাল মোহনের দিকে। তিনি পোশাক খুলে পিঠ দেখান। কিন্তু পিঠে কোনো পেরেক বিদ্ধ হয়নি।
দীর্ঘদিন মার্শাল আর্ট চর্চা ও সাধনা করলে যে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়, তা প্রমাণ করেন যশোর স্টেডিয়ামপাড়ায় অবস্থিত মোহন কারাতে একাডেমির প্রধান প্রশিক্ষক মাহবুবুর রহমান মোহন। তিনি প্রমাণ করে দেখান, কিছু সময়ের জন্য নিজের শরীর প্রতিরোধ গড়ার জন্য শক্ত করা যায়, যাতে শত্রুর আক্রমণ থেকে নিজেকে বাঁচানো সম্ভব। তিনি বলেন, মার্শাল আর্ট চর্চা করে এটা সম্ভব। শুধু মার্শাল আর্ট চর্চা করলে হবে না, দীর্ঘদিন সাধনা করতে হবে।
চলতি বছর মাহবুবুর রহমান মোহন সর্বপ্রথম যশোরের ‘এ’ গ্রেডের কারাতে কোর্স হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি কারাতে ব্ল্যাক বেল্ট চতুর্থ ড্যানে উত্তীর্ণ হয়েছেন। গত ১০ ও ১১ অক্টোবর কক্সবাজারে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী কারাতে সেমিনার ও কোচেস গ্রেডিংয়ে বাংলাদেশ শোটোকান কারাতে-ডো কিউকাইয়ের ২য় কোচেস কারাতে সেমিনার ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কারাতে খেলোয়াড় ও প্রশিক্ষকরা অংশ নেন। পরীক্ষার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের কোচেস গ্রেডিং সনদ প্রদান করা হয়।
বিগত দিনে মাহবুবুর রহমান মোহন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনীর চিলড্রেন ক্লাবের প্রশিক্ষক ছিলেন। মার্শাল আর্ট শিখলে নিজের জীবন নিরাপদ রাখা যায়। শিশুদের মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখা সম্ভব। এছাড়া ধূমপান থেকে বিরত রাখা যায়। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষার্থীর শরীরচর্চা ও আত্মরক্ষার কলাকৌশল শিক্ষা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে মাহবুবুর রহমান মোহন প্রথম মার্শাল আর্ট শুরু করেন। ১৯৯০ সালের আগ পর্যন্ত তিনি খেলোয়াড় ছিলেন। ১৯৯০ সাল থেকে অদ্যাবধি তিনি কারাতে কোচ ও রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর হাতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী কারাতের দীক্ষা নিয়েছেন।