
আমদানি বাড়ায় খুলনার বিভিন্ন কাঁচাবাজারে শীতকালীন সবজির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে শুরু করেছে। তবে এর বিপরীতে মাছ ও মাংসের দাম এখনও চড়া রয়েছে। নগরীর নিরালা, ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজার ও নিউ মার্কেট কাঁচাবাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, শীতের মৌসুমে উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ায় ফুলকপি, বাঁধাকপি, সিম, কাঁচা মরিচ ও আলুসহ বেশ কয়েকটি সবজির দাম কমেছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৫০-৬০ টাকা, ফুলকপি ২৫-৩০ টাকা, পাতাকপি ২৫-৩০ টাকা, সিম প্রকারভেদে ৩০-৫০ টাকা, পেঁপে ৩০-৩৫ টাকা, মুলা ৩০-৪০ টাকা, ধুন্দল ৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩৫-৪০ টাকা, উচ্ছে ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৭০-৮০ টাকা, আলু ২০-৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৮০-৯০ টাকা এবং রসুন ৮০-১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে মাছ, মাংস ও ডিমের দামে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। সাদা ডিম প্রতি হালি ৩৬-৪০ টাকা এবং লাল ডিম ৪০-৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাছের বাজারে প্রতি কেজি ইলিশ আকারভেদে ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, হরিণা, চাকা ও চালি চিংড়ি ৫৫০-৬৫০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৮০০-১২০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৯০০-১২০০ টাকা, দেশি কই মাছ ১০০০-১২০০ টাকা, শিং মাছ ৯০০-১২০০ টাকা, ভেটকি ৫৫০-৭০০ টাকা, রুই ২৫০-৩৫০ টাকা, কাতলা ৩০০-৩৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১৮০-২০০ টাকা এবং পাঙাশ ২০০-২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৪০-১৫০ টাকা, কক ও সোনালি মুরগি ২৩০ টাকা, গরুর মাংস ৭০০-৭৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
নিউ মার্কেটের সবজি বিক্রেতা রাসেল বলেন, সবজির দাম মূলত আমদানির ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে সবজি বেশি আসায় খুচরা বাজারে দাম কমেছে।
বাজার করতে আসা মাদ্রাসা শিক্ষক মো. সুলাইমান হুসাইন হেলালি বলেন, “কিছুদিন আগেও সবজির দাম অনেক বেশি ছিল। ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বাজার করলেও তেমন কিছু কেনা যেত না। এখন একই টাকায় ব্যাগ ভরে যায়।”
নিরালা বাজারের সবজি বিক্রেতা সুমন জানান, উৎপাদন ও সরবরাহ বেশি থাকায় সামনে সবজির দাম আরও কমতে পারে।
বাজার করতে আসা নারী উদ্যোক্তা মোছা. রুবি বেগম বলেন, “কিছু সবজির দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। সারা বছর এমন দাম থাকলে সাধারণ মানুষের অনেক উপকার হতো।”
ব্যাংক কর্মকর্তা তমিজ উদ্দিন বলেন, “সবজির দাম কমায় এখন প্রতিদিনই সবজি খাওয়া সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু মাছ ও মাংসের দাম বেশি থাকায় সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিনের বেশি কেনা যায় না। মাছ-মাংসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালে এলে ভালো হতো