March 6, 2026, 8:01 am
শিরোনাম :
জামালপুরে স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ পোড়ানোর চেষ্টা, আইনজীবী স্বামী আটক মাগুরায় আওয়ামীলীগ কার্যালয় সামনে পতাকা উত্তোলন আগুন ও ভাংচুর, আটক ৩ কুড়িগ্রামে নয় বছর ধরে ভাঙা ব্রিজ, যাতায়াতে আতঙ্কে ২০ হাজার মানুষ সরিষাবাড়ীতে পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবা ও গাঁজাসহ ৪ মাদকসেবী গ্রেফতার রমজানকে ঘিরে বাজার তদারকি জোরদার: রামপালে তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা জয়ের ফাঁস করা তালিকায় শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন ১৫ নায়িকা আরও এক দেশে সরকার পরিবর্তনের হুমকি ট্রাম্পের আনোয়ারায় গ্যাস সংকটে দুই সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ একযোগে রাশিয়ার ৪ যুদ্ধজাহাজে ভয়াবহ হামলা, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ৫ দিন ধরে ইন্টারনেট নেই ইরানে

শেরপুরে বন্য হাতির তাণ্ডব, ক্ষুব্ধ দরিদ্র কৃষক বন বিভাগের উদাসীনতায় ক্ষোভ

Reporter Name

শেরপুরে বন্য হাতির তাণ্ডব, ক্ষুব্ধ দরিদ্র কৃষক বন বিভাগের উদাসীনতায় ক্ষোভ

পি কে এস দীপন, শেরপুর:
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় দিন দিন বেড়েই চলেছে বন্য হাতির তাণ্ডব। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার ফসলি জমি, ফসল ও বসতবাড়ি। স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেছেন, হাতি ও মানুষের দ্বন্দ্ব নিরসনে বন বিভাগ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের ঝুলগাও, হাতিবর, সিংগীজানি, মালাকোচা ও সোনাঝুড়িসহ কয়েকটি গ্রামে বন্য হাতি ফসল নষ্ট ও বসতবাড়ি ভাঙছে। স্থানীয় কৃষক মোতালেব হোসেন বলেন, “সপ্তাহে তিনবার হাতির পাল আমাদের ধান খেয়ে ফেলেছে। বন বিভাগকে জানালেও কোনো কাজ হয়নি।”
অন্য একজন কৃষক আইজল মিয়া জানান, “আমরা নিজেরাই ড্রাম বাজিয়ে ও মশাল জ্বালিয়ে হাতি তাড়াই করি। বন বিভাগের লোক শুধু দূর থেকে দেখেন।” স্থানীয়রা আরও বলেন, বৈদ্যুতিক বাতি দিয়ে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হলেও বন বিভাগ এটি নিষিদ্ধ করেছে।
মালাকোচা এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সভাপতি জানান, আগে বন বিভাগ কেরোসিন দিয়ে সহায়তা করত, এবার কিছুই দেয়া হয়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য সেলিম মিয়া বলেন, “বছরের পর বছর ধরে সমস্যা চলছেই। বন বিভাগ শুধু আশ্বাস দেয়, কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ নেয় না।”
বালিজুড়ি বিট কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম জানান, “হাতির চলাচল সীমান্তের ওপার থেকে। স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেই এবং ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করে ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব পাঠাই।”
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, শুধুমাত্র পরামর্শে সমাধান হবে না। হাতি আক্রমণ রোধে স্থায়ী বেড়া, আলোকসজ্জা ও হাতি প্রতিরোধ কমিটি গঠনসহ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের বসতি ও কৃষিজমি ক্রমেই হাতির আবাসস্থলে ঢুকে পড়ায় দ্বন্দ্ব বাড়ছে।
শ্রীবরদীতে এই চলমান দ্বন্দ্বে শত শত পরিবার ক্ষতির সম্মুখীন হলেও বন বিভাগের উদাসীনতায় তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে।



ফেসবুক কর্নার