
অসীম রায় (অশ্বিনী), বান্দরবান:
পার্বত্য তিন জেলা—বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে জেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৯৮৯ সালে প্রথম ও শেষবারের মতো এই নির্বাচন হয়। এরপর থেকে অনির্বাচিত দলীয় ব্যক্তিদের দিয়ে গঠিত ‘অন্তর্বর্তী পরিষদ’-এর মাধ্যমে চলছে প্রশাসন।
স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচনের অভাবে জবাবদিহির পরিবেশ নষ্ট হয়েছে এবং দুর্নীতির সংস্কৃতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। এর ফলে পাহাড়ের উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাত বেড়েছে।
১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তিতে ৫ বছর মেয়াদি পরিষদ নির্বাচনের বিধান থাকলেও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) ‘আলাদা ভোটার তালিকা’ দাবির কারণে নির্বাচন স্থগিত থাকে। ফলে বিভিন্ন সরকার সুযোগ নিয়ে দলীয়ভাবে অন্তর্বর্তী পরিষদ গঠন করেছে।
জেলা পরিষদে দুর্নীতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় তিন খাতে—কর্মচারী নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য, খাদ্যশস্য বরাদ্দে অনিয়ম এবং ভুয়া উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থ লোপাট। সম্প্রতি দুদকের তদন্তে রাঙামাটির সাবেক সদস্য, প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে; খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জিরুনা ত্রিপুরাকে অপসারণও করা হয়েছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট দীননাথ তঞ্চঙ্গা বলেন, “জবাবদিহি ফিরিয়ে আনতে জেলা পরিষদে অবিলম্বে নির্বাচন প্রয়োজন।”
স্থানীয় নাগরিক সমাজ মনে করে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়া পাহাড়ের উন্নয়ন ও স্বচ্ছ প্রশাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।