March 7, 2026, 5:49 am
শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ডাকসু নেতা সর্বমিত্রের ফেসবুক স্ট্যাটাস জরুরি ভিত্তিতে ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠানোর অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ ইরানে এ যাবৎকালের ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণ’, সময় জানালেন মার্কিন মন্ত্রী দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৫৯ লাখ টাকার মাদক ও ভারতীয় চোরাই পণ্য জব্দ হরমুজ প্রণালি: বিশ্ব অর্থনীতির ধমনীতে ইরানের সতর্কবার্তা কক্সবাজারে  তরুণীকে ধর্ষণ আটক ৩  এনসিপিতে ভাঙনের আভাস, পদত্যাগ করলেন জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক কলিন্স চাকমা সাংবাদিকদের ঐক্য ও সম্প্রীতিতে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বিজয়নগরে গরু-মহিষ চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় খামারিরা আতঙ্কিত

**বিক্ষোভ–মিছিলে উত্তাল মনিরামপুর কাফনের কাপড় পরে রাজপথে বিএনপি নেতাকর্মীরা**

অভয়নগর প্রতিবেদক

মাসুদ রায়হান, স্টাফ রিপোর্টার:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে উঠেছে। দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভের প্রতিবাদে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) হাজারো বিএনপি নেতাকর্মী কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ ও মিছিল নিয়ে রাজপথে নেমে আসে।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মনিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সদর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন বহালের দাবিতে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পৌর শহর কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা যশোর–সাতক্ষীরা মহাসড়কও অবরোধ করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকে পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কাফনের কাপড় পরে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে শহরে সমবেত হন। ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকায় ছেয়ে যায় পুরো শহর। রাজপথ মুখর হয়ে ওঠে স্লোগানে—
“ইকবাল ভাই ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই”,
“ধানের শীষের প্রার্থী—ইকবাল ভাইকেই চাই”,
“৩০ বছর বরগা দিয়েছি, আর নয়।”
মনোনয়ন বিতর্কের পটভূমি
প্রথম ধাপে বিএনপি হাইকমান্ড যশোর-৫ আসনটি স্থগিত রাখলেও পরে অ্যাডভোকেট শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে তৃণমূল পর্যায়ে উৎসাহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে দলীয় জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা মুফতি রশিদ বিন ওয়াক্কাসকে ধানের শীষ প্রতীক দেওয়ার আভাস পাওয়া গেলে নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয় এবং তা রাজপথে বিস্ফোরিত হয়।
“এটা অস্তিত্বের লড়াই”— বিএনপি নেতারা
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন,
“এটা কোনো ব্যক্তির মনোনয়ন নয়, মনিরামপুর বিএনপির অস্তিত্বের প্রশ্ন। তৃণমূলের ত্যাগের মূল্য দিতে হবে।”
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই বলেন,
“তিন দশক ধরে অন্যদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়েছি। এবার আর নয়।”
অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন বলেন,
“ছাত্রজীবন থেকে দলের জন্য লড়াই করেছি। ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরণে হাইকমান্ড মনোনয়ন বহাল রাখবেন বলে আশা করি।”
অতীত ইতিহাস
১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ইকবাল হোসেন। পরবর্তীতে জোট সমঝোতার কারণে আসনটি শরিক দল পেয়েছিল। চলতি মাসের শুরুতে তার নাম ঘোষণার পর এলাকায় আনন্দের ঝড় বইলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সব দৃষ্টি এখন হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তে
মনিরামপুরের রাজপথে এখন একটি কণ্ঠই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে—
ধানের শীষ চাই, ইকবাল হোসেন চাই।
এখন দৃষ্টি বিএনপি হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।



ফেসবুক কর্নার