২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় লক্ষ্মীপুর জেলার ২৩টি বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্র হঠাৎ পরিবর্তনের ঘটনায় জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ড গত ৩০ ডিসেম্বর প্রকাশিত কেন্দ্র তালিকায় অনেক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজ এলাকা থেকে ২০ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম উদ্বেগ ও ভোগান্তিতে।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রামগতির আলেকজান্ডার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে এবং রামগতি–লক্ষ্মীপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন। তারা ঘোষণা দেন, আগামী ৫ জানুয়ারির মধ্যে কেন্দ্র পুনর্বহাল না হলে আলেকজান্ডারে কোনো এসএসসি পরীক্ষা হতে দেওয়া হবে না।
পরিবর্তিত তালিকা অনুযায়ী,
রামগতির আলেকজান্ডার পাইলট হাই স্কুলকে পাঠানো হয়েছে কমলনগরের হাজিরহাট মিল্লাত একাডেমিতে এবং রামগতি বিবি কে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়কে আলেকজান্ডার পাইলট কেন্দ্রে।
কমলনগরের তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়কে পাঠানো হয়েছে লক্ষ্মীপুর সরকারি সামাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে, আর হাজিরহাট মিল্লাত একাডেমিকে তোরাবগঞ্জ কেন্দ্রে। লক্ষ্মীপুর সদরের ভবানীগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ও তোরাবগঞ্জ কেন্দ্রে স্থানান্তরিত হয়েছে।
রায়পুর উপজেলায় রায়পুর এলএম পাইলট হাই স্কুল, চর আবাবিল রচিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়, চর বংশী এসএম আজিজিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও রায়পুর মার্চেন্ট একাডেমির কেন্দ্র একে অপরের মধ্যে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রামগঞ্জে রামগঞ্জ এমইউ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, পানিওয়ালা উচ্চ বিদ্যালয় ও দল্টা রাহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রও একে অপরের সঙ্গে অদলবদল করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদরে প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, হাজিরপাড়া হামেদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, দত্তপাড়া রামরতন উচ্চ বিদ্যালয়, চৌপল্লী কে ডি উচ্চ বিদ্যালয়, নন্দিগ্রাম বদরপুর উচ্চ বিদ্যালয়, মান্দারি উচ্চ বিদ্যালয়, দালালবাজার এনকে উচ্চ বিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর সরকারি সামাদ উচ্চ বিদ্যালয় ও লক্ষ্মীপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও ভিন্ন ভিন্ন দূরবর্তী কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
অভিভাবকরা বলছেন, এত দূরে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হলে শিক্ষার্থীদের ভোরে বাড়ি ছাড়তে হবে, পরিবহন সংকট ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বে। অনেক শিক্ষকও মনে করছেন, এতে পরীক্ষার শৃঙ্খলা বজায় রাখার বদলে নতুন করে বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তি তৈরি হবে।
স্থানীয়রা দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে নিজ নিজ এলাকায় পরীক্ষা কেন্দ্র বহালের দাবি জানিয়েছেন