March 6, 2026, 8:06 pm
শিরোনাম :
সাংবাদিকদের ঐক্য ও সম্প্রীতিতে বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল বিজয়নগরে গরু-মহিষ চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় খামারিরা আতঙ্কিত কাজিপুরে ভুট্টাক্ষেতে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার, এলাকায় চাঞ্চল্য ইবি শিক্ষিকা হত্যা: প্রধান আসামি ফজলুর রহমান গ্রেফতার, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন নীলফামারীতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ প্রকল্পে তরুণদের ব্যাপক সাড়া শ্রীমঙ্গল পুলিশের অভিযানে পানি পাম্প ও চোরাই রাবারসহ ৬ জন আটক কুষ্টিয়ায় সরকারি খাস পুকুর থেকে মাটি অবৈধ কেটে বিক্রির ঘটনায় অভিযান ও কারাদণ্ড ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে উত্তেজনা: মজনু রহমান ননীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ শেরপুরে তিন তেলের পাম্পে মোবাইল কোর্ট অভিযান, মহাস্থানে আবাসিক বোর্ডিংয়ে পুলিশের অভিযান: নারী ও খদ্দেরসহ আটক ৩

কোটি টাকার গোপন ডিল, সীমান্তপথে ভারত পালিয়েই থামেননি জগলুল—অভিযোগ শাহ আলমের “সুরক্ষা নেটওয়ার্ক” চালু ছিল বহুদিন ধরেই

অভয়নগর প্রতিবেদক

 

মোহাম্মদ মুজাহিদঃ সাতক্ষীরা-০৪ (শ্যামনগর–কালিগঞ্জ আংশিক) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জগলুল হায়দারের ভারত পলায়নের ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। শুধু রাতের আঁধারে সীমান্ত পেরোনো নয়—এর পেছনে দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি, অর্থনৈতিক সমঝোতা, এবং একটি শক্তিশালী “সহযোগী চক্র” কাজ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই চক্রের কেন্দ্রে রয়েছেন কথিত বিএনপি নেতা শাহ আলম—এমনটাই দাবি স্থানীয় জনসাধারণের।
আগে থেকেই পরিকল্পিত ছিল পলায়ন—অভিযোগ স্থানীয়দের
তদন্তে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকেই সাবেক এমপি জগলুল হায়দার পরিবারসহ সীমান্ত উপজেলায় অবস্থান শক্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি আত্মীয়তার সুযোগে শাহ আলমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বাড়ান। স্থানীয়দের অভিযোগ—এই সময় শাহ আলম বিভিন্ন দালাল-সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ করে নৌযান, নিরাপদ রুট এবং সীমান্ত-সংযোগ নিশ্চিত করেন। এরপর কোটি টাকার গোপন চুক্তিতে ৫ আগস্ট রাতে কালিন্দী নদীপথে তাকে ভারতে পার করে দেওয়া হয়।
অর্থ লেনদেনের অভিযোগ আরও জোরালো
প্রথম পর্বের পর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নতুন তথ্য—স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক সূত্র দাবি করেছে, শুধু “এক কোটি টাকা”ই নয়, তারও বেশি অর্থের লেনদেন হয়েছে। এই লেনদেনের টাকায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও “ম্যানেজ” করার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন তারা। তবে এর প্রমাণ চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কারিগরি তদন্ত প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সচেতন মহল।
জগলুল হায়দারের ‘অবৈধ সম্পদ সাম্রাজ্য’—নতুন করে আলোচনায়
জানা যায়, সংসদ সদস্য থাকাকালে ঘুষ বাণিজ্য, চাকরি বাণিজ্য, প্রকল্প বরাদ্দে কমিশন, জমি দখল ও বাগদা চিংড়ি ঘেরের “পুশ সিন্ডিকেট”-এর মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জন করেন তিনি। স্থানীয়রা দাবি করছেন—এই অবৈধ সম্পদের সিংহভাগ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। শুধুমাত্র নিজে নয়, পরিবার, আত্মীয় এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের নামেও সম্পদ তৈরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শাহ আলমের ভূমিকা আরও প্রশ্নবিদ্ধ
এদিকে জগলুল হায়দারের নাম ব্যবহার করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও আতঙ্ক বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে শাহ আলমের বিরুদ্ধে। এখন আবার একই ব্যক্তি নিজেকে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ—তিনি একদিকে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী সাবেক এমপির সুবিধাভোগী, অন্যদিকে নতুন রাজনৈতিক অবস্থার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে আবার বিএনপির ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন। ফলে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে।
নির্বাচন সামনে রেখে “কৌশলগত সম্পর্ক” কি ছিল?—উঠছে নতুন প্রশ্ন
অনেকে মনে করছেন—জগলুল হায়দারের পলায়ন ছিল শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নয়, বরং বড় কোনো “রাজনৈতিক সমঝোতা”রও অংশ হতে পারে। কোনো ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চুক্তি বা নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করতেই কি শাহ আলমকে ব্যবহার করা হলো? স্থানীয়দের মনে এমন প্রশ্ন দিন দিন জোরালো হচ্ছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে রহস্য
ঘটনার দিন পাশের এলাকায় গুঞ্জন থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেয়নি—তাও এখন প্রশ্নের মুখে। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন—ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্তদের বক্তব্য
এ বিষয়ে শাহ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন—
“জগলুল হায়দার আমাদের আত্মীয়, কিন্তু তাকে কোটি টাকার বিনিময়ে ভারতে পার করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, তার অস্বীকারেই পরিস্থিতি পরিষ্কার নয়; বরং আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
কঠোর তদন্তের দাবি
সুশীল সমাজ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষিত মহল এবং সাধারণ মানুষ জোরালোভাবে দাবি তুলেছেন—১️ জগলুল হায়দারের অবৈধ সম্পদের পূর্ণ তদন্ত ২️ তার ভারত পলায়নে জড়িত সব পক্ষের সনাক্তকরণ ৩️ শাহ আলমসহ সহযোগী সিন্ডিকেটের বিচার ৪️ প্রশাসনের ভূমিকা কেন দুর্বল ছিল—তারও অনুসন্ধান শাহ আলম এর বিরুদ্ধে অভিযোগের যাবতীয় তথ্য প্রমাণ আমাদের বার্তা বিভাগে সংরক্ষিত এবং অনুসন্ধান চলমান আছে।



ফেসবুক কর্নার