April 24, 2026, 2:41 am
শিরোনাম :
ধামইরহাটে পুলিশের অভিযানে ৬৫০০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার ও ধ্বংস কালিগঞ্জের ডিআরএম কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার বরখাস্ত শান্তিগঞ্জে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন, সপ্তাহজুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি তীব্র গরমে অভিভাবকদের পাশে দাঁড়ালেন ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহীন মাহমুদ ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে চলা তাপস্বীর পাশে জেলা পরিষদ বাগমারায় ৭ মাসের শিশুকে নিয়ে নিখোঁজ গৃহবধূ, উৎকণ্ঠায় পরিবার শিবগঞ্জে টানা চুরির ঘটনায় আতঙ্ক, চার দিনে ১৩ বাড়িতে সিঁধ কাটা মান্দায় জমি বিরোধে সাত বিঘার বোরো ধান কেটে নেওয়ার অভিযোগ ব্যবসা নিয়ে সংঘর্ষ মামলায় এনায়েতনগর যুবদলের তিন নেতা জামিনে মুক্তির পথে সিংগাইরে নারীর মরদেহ উদ্ধার, রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের অপেক্ষায় পুলিশ

শেরপুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর দায়িত্বহীনতা চরমে নিয়মিত অনুপস্থিতিতে ব্যাহত নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সেবা ক্ষুব্ধ সেবাগ্রহীতা ও ঠিকাদাররা

অভয়নগর প্রতিবেদক

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে থেকেও চরম অনীহা, অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে শেরপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।
গত ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে তাকে শেরপুর জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়। এর আগে তিনি ময়মনসিংহ জেলায় টানা চার বছরেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন। তুলনামূলকভাবে ছোট জেলা শেরপুরে (৫টি উপজেলা) পদায়নের পর থেকেই দায়িত্ব পালনে তার অনীহা ও অবহেলা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
নিয়মিত অনুপস্থিতিতে সেবা কার্যক্রম স্থবির
স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল হোসেনের নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিতি এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ফলে শেরপুর জেলায় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন সংক্রান্ত কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
একসঙ্গে দুই জেলার দায়িত্ব, অফিস করেন মাত্র একদিন
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৯ নভেম্বর জামালপুর জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ শূন্য হলে তিনি প্রধান প্রকৌশলীর ওপর চাপ প্রয়োগ করে ওই জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দুই জেলার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সপ্তাহে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তিনি মাত্র একদিন অফিস করেন। ওই দিন সকালে ময়মনসিংহ থেকে এসে প্রথম অর্ধবেলা শেরপুর এবং দ্বিতীয় অর্ধবেলা জামালপুরে অবস্থান করেন। বাকি চারদিন তাকে কোনো অফিসেই পাওয়া যায় না। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই সময়গুলোতে তিনি বদলির তদবিরে ব্যস্ত থাকেন।
দাপ্তরিক প্রয়োজনে ফোন করলে অধীনস্তদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
উন্নয়ন কার্যক্রমে মারাত্মক জটিলতা
জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাগুলোর পরিষদ বিলুপ্ত হওয়ায় বর্তমানে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কর্ম সম্পাদন সহায়তা কমিটির মাধ্যমে। শেরপুর ও জামালপুর জেলা পরিষদ এবং পৌরসভার এসব কমিটির সদস্য হয়েও কোনো বৈঠকে অংশ নেন না নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল হোসেন।
এর ফলে উন্নয়ন কাজের অনুমোদন, বিল ছাড় ও প্রকল্প বাস্তবায়নে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে দুই জেলার ঠিকাদাররা চরম সংকটে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মন্তব্যে ক্ষোভ
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন,
“শেরপুরের চেয়ে আর কোন ছোট জেলায় আমাকে পোস্টিং দিবে?”
তার এই মন্তব্যকে দায়িত্বশীল কর্মকর্তার জন্য অহংকারপূর্ণ ও অবমাননাকর বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অতীতেও অনিয়মের অভিযোগ
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের এমপি আনোয়ারুল আবেদীন তুহিন এবং ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের এমপি ও সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ বাবুর তদবিরে ২০২০ সালে তিনি ময়মনসিংহে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পোস্টিং পান।
ময়মনসিংহে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে টেন্ডারে রেট বাণিজ্য, মেকানিক দিয়ে সাব-কন্ট্রাক্টরী, কাজ না করেই বিল প্রদান, ঠিকাদারকে অগ্রিম বিল ছাড় এবং ‘সিক্সটি-ফরটি’ ভাগাভাগির মাধ্যমে রিভিশন করানোর অভিযোগ ওঠে।
তদন্ত ও শাস্তির দাবি
ভুক্তভোগীদের দাবি, মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নিরপেক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হলে এসব অনিয়মের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। শেরপুরবাসী ও সচেতন নাগরিক সমাজ দ্রুত নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল হোসেনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



ফেসবুক কর্নার