চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ কোটি টাকার হেরোইন উদ্ধার নিয়ে ধোঁয়াশা ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেল
অভয়নগর প্রতিবেদক
Update Time :
Tuesday, January 20, 2026
/
52 Time View
/
Share
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩ কেজি হেরোইনসহ এবরান আলী নামে এক নিরীহ কৃষককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, জনৈক মাদক সম্রাট ও আওয়ামী লীগের দোসর জুয়েল মেম্বারের প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন তিনি। মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি কথিত জুয়েল মেম্বারের ইন্ধনে এই ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ মূলক ঘটনা সাজানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।এবরান আলীর বাড়ি থেকে
জব্দকৃত ৩ কেজি হেরোইনের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। এঘটনায় জুয়েল মেম্বারকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হয়। কিন্ত তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে স্থানীয়রা জানায়, জুয়েল মেম্বার এক সময় আওয়ামীলীগ নেতাদের সাথে উঠা-বসা করতো। অপরদিকে- এবরান আলীর পরিবার ও ভাইবোনরা বিএনপির সমর্থক ছিলো সেই কারনেও এবরান আলীর সাথে বিরোধ ছিলো তার।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নায় ভেঙে পড়লেন স্বজনরা গত ১৮ জানুয়ারি (রবিবার) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্থানীয় একটি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারকৃত কৃষক এবরান আলীর স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এবরান আলী সদর থানার মাল বাগডাঙ্গা সোনাপট্টি গ্রামের মাহতাব উদ্দিনের ছেলে। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত (Judicial Inquiry) দাবি করা হয়।
প্রতিহিংসার অভিযোগ গ্রেপ্তারকৃত কৃষকের ছেলে সাংবাদিক আলী হোসেন সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, “আমি সাংবাদিক হিসেবে স্থানীয় মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সংবাদ প্রকাশ করে আসছি। বিশেষ করে চর বাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড সদস্য জুয়েল রানা—যিনি নিজে একটি মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি (সেসন নং-২৫৭/২৪)—তার অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ে প্রতিবেদন করায় তিনি আমার ওপর চরম ক্ষিপ্ত ছিলেন।
আলী হোসেন অভিযোগ করেন, গত ১৭ জানুয়ারি দিবাগত রাত ১টার দিকে জুয়েল মেম্বার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে কৌশলে তাদের বাড়িতে মাদক রেখে যান। এর কিছুক্ষণ পরই অভিযান পরিচালিত হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যে পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরায়, তাদের কাছে ৩ কোটি টাকার হেরোইন থাকা আকাশকুসুম কল্পনা ও অবাস্তব।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়—আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত একজন চিহ্নিত অপরাধী কীভাবে লোকালয়ে ঘুরে বেড়ায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার সুযোগ পায়? আলী হোসেন আরও জানান, এর আগেও জুয়েল রানা তাকে সংবাদ প্রকাশের জেরে হত্যা ও মারধরের হুমকি দিয়েছিলেন। এখন তার পিতাকে গ্রেপ্তার করিয়ে পুরো পরিবারকে ধ্বংস করার চক্রান্ত চলছে।
র্যাবের ভাষ্য অভিযোগের বিষয়ে র্যাব-৫, রাজশাহী এর সিপিসি-১ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্প সূত্র জানায়, তারা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান পরিচালনা করেছে। সংস্থাটির ভাষ্যমতে, “আমরা সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়েছি এবং আসামির হেফাজত থেকে মাদক উদ্ধার করেছি। তথ্যের উৎস কে ছিল তা তদন্তের বিষয় নয়, উদ্ধার হওয়াই মূল বিষয়।
ভুক্তভোগী পরিবার এই ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছেন। তারা অবিলম্বে নিরপরাধ কৃষক এবরান আলীর মুক্তি এবং চিহ্নিত সাজাপ্রাপ্ত আসামি জুয়েল মেম্বারকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।