
মাগুরায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিএনপির দুই নেতাকে আটক করা হয়েছে। শুক্রবার (ভোররাত) জেলার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের মুন্সিপাড়া এলাকায় নিজ নিজ বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত এ অভিযানে আটক ব্যক্তিরা হলেন—
শালিখা থানা বিএনপির সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান চকলেট মুন্সি এবং শালিখা থানা যুবদলের সদস্য সচিব নয়নুজ্জামান নয়ন মুন্সি। তারা সম্পর্কে আপন ভাই।
যৌথ বাহিনী জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় মনিরুজ্জামান চকলেট মুন্সির কাছ থেকে একটি সচল ফায়ারিং পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি তার বসতবাড়ি থেকে কিছু দেশীয় অস্ত্র ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আটক দুজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আবু সাঈদ জানান, রাতে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দুজনই শালিখা উপজেলার মুন্সিপাড়া এলাকার মৃত শহিদুর রহমানের ছেলে এবং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
তিনি আরও জানান, অভিযানে মনিরুজ্জামান চকলেট মুন্সির কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও বাড়ি থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে আটক মনিরুজ্জামান চকলেট মুন্সির স্ত্রী লাবনী পারভীন অভিযোগ করে বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার স্বামীকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।
এ বিষয়ে লাবনী পারভীনের ভাই পারভেজ জানান, সেনাবাহিনীর সদস্যরা প্রথমে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে কিছুই পাননি। পরে তাকে ডেকে জানানো হয় যে আলমারির নিচ থেকে অস্ত্র পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। তার মতে, পুরো বিষয়টি পরিকল্পিত এবং সত্যের সঙ্গে মিল নেই।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।