March 7, 2026, 8:24 am

যাকাত না দিলে ঈমান প্রশ্নবিদ্ধ হয়: ধর্ম উপদেষ্টা

অভয়নগর প্রতিবেদক

দেশের বহু মানুষ যাকাত দেন না, যা তাদের ঈমানের দুর্বলতার প্রমাণ—এমন মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, কোরআন ও হাদিসের মৌলিক নির্দেশনা অনুযায়ী যাকাত ফরজ। যারা তা অস্বীকার করে বা প্রদান করে না, তারা প্রকৃত অর্থে বিশ্বাসী নয়; বরং মোনাফেকের পর্যায়ে পড়ে। আর যারা নিয়ম অনুযায়ী যাকাত আদায় করেন, তারাই প্রকৃত ঈমানদার।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত চতুর্দশ যাকাত ফেয়ার–২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, সরকারের অধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে একটি যাকাত বোর্ড পরিচালিত হচ্ছে। তবে এখনো সেটিকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে যাকাত বোর্ডের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১১ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়। এই অর্থের ৮০ শতাংশ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বিতরণ করা হয় এবং বাকি ২০ শতাংশ কেন্দ্রীয়ভাবে ব্যয় করা হয়। তিনি দাবি করেন, এ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে।

তবে যাকাত সংগ্রহের পরিমাণ কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই ক্ষেত্রে সেন্টার ফর যাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) তুলনামূলকভাবে অনেক এগিয়ে রয়েছে।

ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, দেশের অনেক ধনী ব্যক্তি সঠিক হিসাব অনুযায়ী যাকাত না দিয়ে ইচ্ছামতো একটি নির্দিষ্ট অঙ্ক দান করেন, যা শরিয়তসম্মত নয়। যাকাত না দেওয়ার জন্য কঠোর পরকালীন জবাবদিহির বিষয়টি অনেকেই অনুধাবন করেন না।

অনুষ্ঠানে তিনি যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, সমাজে থাকা যৌনকর্মীদের আমরা ঘৃণা করি বা তাড়িয়ে দিই, কিন্তু তাদের জীবিকা ও মানবিক প্রয়োজন নিয়ে ভাবি না। দারিদ্র্যের কারণে অনেক নারী এই পেশায় জড়াতে বাধ্য হন। যাকাতের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার করে তাদের কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা গেলে তারা এই পেশা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন।

তিনি বলেন, যাকাতকে প্রাতিষ্ঠানিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে আনতে সিজেডএম-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা গেলে দারিদ্র্য বিমোচনে এটি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।



ফেসবুক কর্নার