
নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত নাটোর-৪ আসনের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে কৃষি অথবা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। তাদের মতে, কৃষি ও মৎস্যসম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলের সম্ভাবনাকে জাতীয় পর্যায়ে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট খাতে অভিজ্ঞ ও স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কে অবগত নেতৃত্ব প্রয়োজন।
চলনবিল—কৃষি ও মৎস্যে সম্ভাবনার কেন্দ্র
নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলা ঐতিহ্যবাহী চলনবিল অধ্যুষিত এলাকা। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই বিলকে ঘিরে গড়ে ওঠা জনপদে ইরি, বোরো ও আমন ধান ছাড়াও রসুন, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসল ব্যাপক পরিমাণে উৎপন্ন হয়। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, এ অঞ্চল দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
শুধু কৃষিই নয়, চলনবিলকেন্দ্রিক বিস্তীর্ণ জলাভূমি ঘিরে মাছ উৎপাদনেও এ অঞ্চল উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। স্থানীয়দের দাবি, দেশের বিভিন্ন জেলায় মাছ সরবরাহের ক্ষেত্রে বড়াইগ্রাম–গুরুদাসপুর একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কৃষি ও মৎস্যসম্পদনির্ভর শিল্পায়ন, আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। তারা মনে করেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে তা জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নাটোর জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, প্রতিকূল সময়েও তিনি দলীয় আদর্শে অবিচল থেকে এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদারে ভূমিকা রেখেছেন।
বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অভিমত, কৃষি ও মৎস্যসমৃদ্ধ এই অঞ্চলের উন্নয়নে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সরাসরি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলে তা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট দলীয় নীতিনির্ধারকদের কাছে আব্দুল আজিজকে কৃষি অথবা মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ—এই দুই মন্ত্রণালয়ের যেকোনো একটির দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হোক।