June 4, 2026, 9:02 am
শিরোনাম :
ফরিদপুরে বিষাক্ত রাসায়নিক দিয়ে মাছ নিধন, দূষিত পানিতে ভোগান্তিতে ২০ হাজার মানুষ ভাঙ্গায় পুলিশের অভিযানে ৮ পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতার জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে কালীগঞ্জে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল জমি বিরোধে হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ, শ্রীবরদীতে মানববন্ধনে বিচার দাবি ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধর , চালক আটক টাঙ্গাইলে মাদকসহ গ্রামবাসীর হাতে আটক কুখ্যাত মাদক কারবারি ছবুর মহাসড়ক যখন ধান শুকানোর চাতাল: রৌমারীতে বাড়ছে মৃত্যুফাঁদের ঝুঁকি কটিয়াদীতে এ.কে বাশার রতন হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ফের হামলার অভিযোগ, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জবি রোভার স্কাউট গ্রুপের আয়োজনে ৫৩৫তম স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্সের উদ্বোধন বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে ঝিনাইদহে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক আলোচনা

মণিরামপুরে বন্যা হত্যা ট্রাজেডি ভুয়া প্রতিবাদ ছাপে অভিযুক্ত তপু, থানাকে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগ

Reporter Name

নিজস্ব প্রতিবেদক, মণিরামপুর (যশোর)
মণিরামপুর উপজেলার চিনাটোলা বাজারে ভাড়া বাসা থেকে ব্র্যাক বাংলাদেশ–এর মাঠকর্মী বন্যা খাতুন (৩২)-এর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আত্মহত্যা হিসেবে দেখিয়ে দ্রুত লাশ হস্তান্তর এবং পরবর্তীতে মামলার আসামি মেহেদী হাসান তপুর প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা—এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বজনরা হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তোলেন।
গত ৭ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে চিনাটোলা বাজারস্থ বিশ্বজিতের দ্বীতল ভবনের নিচতলার কক্ষ থেকে বন্যার মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। পরদিন ৮ নভেম্বর আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বাবলুর রহমান খান সাংবাদিকদের জানান, “ময়নাতদন্তে আত্মহত্যা ছাড়া অন্য কিছু পাওয়া যায়নি।” তিনি দাবি করেন, ফরেনসিক চিকিৎসক ফোনে তাঁকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
কিন্তু মৃতের ভাই রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন, দাফনের সময় বন্যার কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। তাঁর অভিযোগ—
“তপুই আমার বোনকে হত্যা করেছে। অথচ থানায় ভুয়া ডাক্তারি রিপোর্ট দেখিয়ে ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে নরমাল করে দেয়া হয়েছে।”
অভিযুক্তের পলাতক থাকা এবং পরে ‘প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা’
ঘটনার পর থেকেই বন্যার স্বামী মেহেদী হাসান তপু পলাতক ছিলেন। তবে সম্প্রতি স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় তাঁর পক্ষ থেকে প্রতিবাদ প্রকাশ হয়—যেখানে উল্লেখ করা হয় যে তিনি পলাতক নন। অথচ তথ্য সংগ্রহে গেলে তপুর বাবা ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান জানান, “তপু কোথায় আছে আমরা কেউ জানি না।”
এদিকে স্থানীয় সূত্র বলছে, পত্রিকার ওই প্রতিবাদটি মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ছাপানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা তপুকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিচ্ছেন এবং “কিছুই হবে না” বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
ঘটনাকে আরও রহস্যজনক করে তুলছে কয়েকটি প্রশ্ন:
মৃত্যুর সময় থেকে কেন তপু পলাতক ছিলেন?
বন্যার গলায় ফাঁসের কোনো চিহ্ন নেই কেন?
শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নের ব্যাখ্যা কী?
দেড় বছরের সন্তান রেখে তপু কেন কোনো খোঁজখবর নেননি?
পাশের কক্ষের ভাড়াটে যিনি প্রথমে তথ্য দিয়েছিলেন, পরবর্তীতে কেন তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না?
বাসায় সিসি ক্যামেরা থাকলেও রেকর্ড সংরক্ষিত নেই কেন?
বন্যার ভাই থানায় ৩০৬ ধারায় অভিযোগ করার পরও তপু কীভাবে চিনাটোলার বিএনপির প্রচারসভায় পুলিশের সামনেই উপস্থিত হলেন?
এসব প্রশ্নের উত্তর না পাওয়ায় এলাকাজুড়ে জনমনে ক্ষোভ ও সন্দেহ বাড়ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্বজনদের অভিযোগ, তপু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এখন প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। ফলে হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অভিযোগের ন্যায়বিচার নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে মণিরামপুর–কেশবপুর সার্কেল এএসপি ইমদাদুল হক বলেন, “অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হবে।”



ফেসবুক কর্নার