
জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মা ও তার গর্ভবতী কন্যার ওপর মারধর, শ্লীলতাহানি এবং স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ছয়জনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন— আবু বক্কর সিদ্দিক (৪৮), আজিজুর সরকার (৫০), আবু কালাম (৩৫), জনি চৌধুরী (৩৮), শাপলা বেগম (৩০) ও সালেহা বেগম (৫৫)। তারা সবাই ক্ষেতলাল উপজেলার রামপুরা গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। ২০ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্তরা দলবদ্ধভাবে লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে। হামলায় তার হাত ও পায়ে গুরুতর জখম হয়।
একজন আসামি ভুক্তভোগীর পরনের কাপড় টেনে ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি চালায় এবং তার কানে থাকা ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের দুল (মূল্য আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার সময় তার গর্ভবতী কন্যা সাবরিন সিফা ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। এতে কন্যার শরীরে গুরুতর আঘাত লাগে এবং গর্ভস্থ সন্তানের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া তার গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন (মূল্য আনুমানিক ২ লাখ ১০ হাজার টাকা) ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহত মা ও কন্যাকে প্রথমে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কন্যার অবস্থার অবনতি হলে তাকে জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
অভিযুক্ত আবু বক্কর সিদ্দিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “জমি সংক্রান্ত কিছু ঝামেলা হয়েছিল, কিন্তু আমি বা আমার লোকজন তাদেরকে আঘাত করি নি। অভিযোগ মিথ্যা।”
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নূরে আলম সিদ্দিক জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।