
খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলা-র পাহাড়ি ঢালজুড়ে বসন্তের রঙিন আবহ এখন চোখে পড়ার মতো। চারদিকে আমের সাদা-হলুদ মুকুলে ভরা সবুজ বাগান, পাহাড়ি হাওয়ার মিষ্টি সুবাসে পুরো এলাকা মুখরিত।
স্থানীয়ভাবে সুস্বাদু ও জনপ্রিয় জাত আম্রপালি আমের জন্য পানছড়ির পাহাড়ি অঞ্চল বিশেষ পরিচিত। এখানকার অনুকূল আবহাওয়া, পাহাড়ি মাটি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে প্রতি বছরই ভালো ফলনের আশা করেন বাগানিরা।
এ বছর বাগানগুলোতে চোখে পড়ার মতো পরিমাণে মুকুল এসেছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন পাহাড়জুড়ে সাদা-সোনালি চাদর বিছানো আছে। মৌমাছির গুঞ্জন, হালকা বাতাসে দুলতে থাকা মুকুল আর সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা ফুল এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য তৈরি করেছে।
স্থানীয় বাগানিরা জানিয়েছেন, সাধারণত জুন থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে আম্রপালি আম সংগ্রহ করা যায়। এবার যে হারে ফুল এসেছে, ফলন ভালো হলে তারা উল্লেখযোগ্য লাভের আশা করছেন।
পানছড়ি উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুস সালাম জানান, “এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আম্রপালি আমের গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। নিয়মিত পরিচর্যা, রোগবালাই দমন ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে বাগানিরা ভালো ফলন পাবেন।” তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগ বাগানিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিচ্ছে যাতে মুকুল ঝরে পড়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কমানো যায়।
আম্রপালি আম শুধু একটি ফল নয়, পাহাড়ি অঞ্চলের অনেক পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস। ভালো ফলন হলে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলাতেও আম সরবরাহ করা হয়, যা কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও সচল রাখে।
সব মিলিয়ে পানছড়ির পাহাড়ি আম বাগান এখন প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্য আর কৃষকের স্বপ্নের প্রতীক। বাগানির চোখে এখন একটাই স্বপ্ন—ফুলে ভরা পাহাড় যেন কিছুদিন পর পেকে ওঠা সোনালি আমে ভরে যায়।