
পঞ্চগড় সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ী ইউনিয়নের কাশিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করায় খোলা আকাশের নিচেই চলছে শিক্ষার্থীদের ক্লাস। তীব্র রোদ ও বৃষ্টির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে খোলা মাঠে গাছের ছায়ায় শিক্ষকরা পাঠদান করাচ্ছেন। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে বই-খাতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আশপাশের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়। আবার প্রচণ্ড রোদে অনেক সময় ক্লাস বন্ধ রাখতে বাধ্য হন শিক্ষকরা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের ভবনটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে এসেছে এবং ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবনটিতে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করেছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, খোলা মাঠে রোদের মধ্যে ক্লাস করতে খুব কষ্ট হয়। বৃষ্টি শুরু হলেই বই-খাতা নিয়ে দৌড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে হয়। ফলে ঠিকমতো পড়াশোনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছে।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিকের বাবা নুর জামাল বলেন, “শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠানো যায় না, আবার খোলা মাঠেও নিয়মিত ক্লাস সম্ভব নয়। দ্রুত একটি নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করা উচিত।”
সহকারী শিক্ষক আরফিনা বেগম বলেন, “খোলা মাঠে ব্ল্যাকবোর্ড ছাড়া পাঠদান করতে হচ্ছে। লিখিত কাজ করানোও সম্ভব হচ্ছে না। বৃষ্টি বা অতিরিক্ত রোদে ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে সীমিত পরিসরে খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। দ্রুত একটি অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ এবং নতুন ভবন নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।”
এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন বলেন, “বিদ্যালয়ের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত একটি অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে শিগগিরই চাহিদাপত্র পাঠানো হবে।”