সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার বিভিন্ন গ্রামে আক্রমণে নিহত পরিবারের বঞ্চিত ‘বাঘ বিধবা’ নারীদের মুখে হাসি ফুটাতে ঈদ উপলক্ষে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
কয়রা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের ১৬৫ জন বাঘ বিধবার মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এতে দেওয়া হয় চাল, ডাল, তেল, সেমাই, চিনি, ছোলা, খেজুরসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে আইসিডি নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সহযোগিতায় আইএফএসডি।
রবিবার (৮ মার্চ) বেলা ১১টায় কয়রার কপোতাক্ষ কলেজ চত্বরে আয়োজনের মাধ্যমে সামগ্রী বিতরণ করা হয়। কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আব্দুল্লাহ আল বাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর আমিরুল ইসলাম কাগজী। বিশেষ অতিথি ছিলেন আইএফএসডির নির্বাহী পরিচালক আব্দুল্লাহ শাহরিয়ার বিজয়, কপোতাক্ষ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: ওলিউল্যাহ, কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো: শরিফুল আলম, খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান, আইসিডির প্রতিষ্ঠাতা মো: আশিকুজ্জামান আশিক ও বড়বাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: হুমায়ুন কবির।
ত্রাণ সামগ্রী গ্রহনকালে বাঘ বিধবা হালিমা খাতুন বলেন, “সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, অন্য কোথাও বিবাহ না করে চায়ের দোকান করেই জীবিকা নির্বাহ করেছি। নানা বঞ্চনার মুখে পড়েও এই ধরনের উদ্যোগ আমাদের অনেক সাহস যোগায়।”
আইসিডির প্রতিষ্ঠাতা মো: আশিকুজ্জামান বলেন, “সুন্দরবন নির্ভর জীবিকার কারণে অনেক জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারান। তাদের পরিবার, বিশেষ করে স্ত্রী ও সন্তানরা মানবেতর জীবনযাপন করে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা এসব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি। সমাজের বিত্তবানদেরও অনুরোধ, এই ধরনের পরিবারের পাশে দাঁড়ান।”
প্রধান অতিথি আমিরুল ইসলাম কাগজী বলেন, “সুন্দরবন সংলগ্ন অঞ্চলের অনেক পরিবার বাঘের আক্রমণে প্রিয়জন হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমি কয়রা অঞ্চলের এই বাঘ বিধবা নারীদের নিয়ে কাজ করছি। ভবিষ্যতে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলার চেষ্টা করব।”
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, “বাঘ বিধবা নারীরা সমাজের একটি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। তাদের অভিযোগ ও সমস্যার সমাধানে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”