
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাদ্য সরবরাহের ঠিকাদার নিয়োগকে ঘিরে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের দুই কর্মচারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স ব্যবহার করে কার্যাদেশ পাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাদ্য ও পথ্য সরবরাহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। সম্প্রতি এ কার্যক্রমের জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হলে ‘মিশন কর্পোরেশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘মিশন কর্পোরেশন’-এর লাইসেন্স ব্যবহার করে জমা দেওয়া দরপত্রটি মূলত হাসপাতালের প্রধান অফিস সহকারী আব্দুল হান্নান ও স্টোরকিপার সাইফুল ইসলামের যোগসাজশে দাখিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই দপ্তরের কর্মচারী হয়ে ঠিকাদারি কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করায় গোপনীয়তা ও চাকরিবিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার জানান, একই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী হয়ে ঠিকাদারি কার্যাদেশ পাওয়া অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির শামিল হবে। যদি ‘মিশন কর্পোরেশন’ কার্যাদেশ পায়, তবে তারা আইনগত পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান।
অভিযোগ রয়েছে, প্রধান অফিস সহকারী আব্দুল হান্নান দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তাকে সদর উপজেলা থেকে সরিষাবাড়ীতে বদলি করা হয়। সে সময় তার যোগদান ঠেকাতে হাসপাতালের সামনে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন আন্দোলন হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
অন্যদিকে স্টোরকিপার সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় গত বছর ইসলামপুর উপজেলা থেকে সরিষাবাড়ীতে বদলি করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, উভয় কর্মকর্তা একই উপজেলায় একত্র হয়ে ফের প্রভাব বিস্তার ও অনিয়মের চেষ্টা করছেন এবং নিয়মিতভাবে অফিসেও উপস্থিত থাকেন না।
অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে অফিসে গেলেও তাদের পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রাজবংশী বলেন, নিয়ম অনুযায়ী স্বচ্ছভাবে দরপত্র কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।