April 26, 2026, 3:50 pm
শিরোনাম :
বরিশালে পকেটমার সন্দেহে যুবদল নেতা আটক, পরে ছেড়ে দেওয়া রাঙ্গামাটিতে অসুস্থ বন্য হাতির মৃত্যু, সঙ্গীর বিচ্ছেদে হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য প্রেমের বিয়ে, পাঁচ মাসের সংসার—সুনামগঞ্জে স্বামী-স্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু সেই কলেজের শিক্ষিকা হীরা সাময়িক বরখাস্ত, তদন্তের নির্দেশ রামপালে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে তিন ভুয়া ‘সাংবাদিক’ নিয়ে চাঞ্চল্য ঝিরি থেকে বালু উত্তোলন, ধসে যাচ্ছে রাস্তার ভিত্তি—নীরব কেন প্রশাসন? প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে পিরোজপুরের সোহাগের সংগ্রামী জীবন সিলেটে বিজিবির উদ্যোগে সচেতনতামূলক সভা ও ফ্রি চিকিৎসাসেবা নাহিদা হত্যার বিচার দাবিতে ধামরাইয়ে মানববন্ধন কুলাউড়ায় পাবলিক লাইব্রেরি পুনঃচালুর দাবিতে মতবিনিময় সভা, স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত

মাটির সাথে মিশেছে কৃষকের স্বপ্ন: রৌমারীতে ঝড়ের তাণ্ডব

কে. এম. জাকির রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রকৃতির খেয়ালিপনা মাঝে মাঝে কতটা নির্মম হতে পারে, তার স্পষ্ট প্রমাণ এখন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বিস্তীর্ণ ভুট্টা ক্ষেত। গত দুই দিনের টানা ঝড়ো হাওয়া ও দমকা বাতাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সীমান্তবর্তী এই জনপদের কৃষকের ঘামঝরা স্বপ্ন। যে ভুট্টা গাছগুলো কদিন আগেও বুক টানটান করে দাঁড়িয়ে সোনালী ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, আজ সেগুলো মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।
রৌমারীর চরাঞ্চল ও বিস্তীর্ণ সমতলে ভুট্টা এখন প্রধান অর্থকরী ফসল। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা আশাবাদী ছিলেন ভালো ফলনের। কিন্তু হঠাৎ আসা ঝড় সেই আশাকে মুহূর্তেই মাটি করে দিয়েছে। আব্দুল খালেক, সাদ্দাম হোসেনের মতো অসংখ্য কৃষকের হতাশা আর আর্তনাদ এখন রৌমারীর মাঠে-ঘাটে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। অনেক কৃষক ধার-দেনা করে কিংবা চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই আবাদ করেছিলেন। ফলে মাঠের পর মাঠ হেলে পড়া ভুট্টা গাছ এখন শুধু ফসলের ক্ষতি নয়, বরং একেকটি পরিবারের আর্থিক মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ার প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুট্টা গাছ শিষ ধরার সময় হেলে পড়লে পরাগায়ন ব্যাহত হয় এবং দানা ঠিকমতো গঠন করতে পারে না। এতে ফলন অর্ধেকের নিচে নেমে আসার আশঙ্কা থাকে। রৌমারীর মতো কৃষিপ্রধান এলাকায় ভুট্টা উৎপাদনের ওপর স্থানীয় অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল। ফলে এ ধরনের ক্ষতি স্থানীয় বাজার ও কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ অবস্থায় শুধু আফসোস করে বসে থাকার সময় নেই। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবি। কৃষি অফিসকে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঠিক তালিকা প্রস্তুত করতে হবে, যাতে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেতগুলোতে বাঁশ বা খুঁটি দিয়ে গাছ সোজা করা এবং প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষতি কমানোর পরামর্শ মাঠ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে হবে।
একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে সার, বীজ বা নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান এবং ক্ষুদ্র চাষিদের ঋণের কিস্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করা বা সুদমুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও দুর্যোগ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা মানুষের হাতেই। রৌমারীর কৃষকরা লড়াকু মানুষ। তারা বারবার প্রকৃতির সঙ্গে সংগ্রাম করেই টিকে আছেন। তবে এবারের ক্ষতটা অনেক গভীর। সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি এবং স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপই পারে হতাশাগ্রস্ত কৃষকদের আবার ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি জোগাতে।
আমরা চাই না, ঝড়ে ফসলের সঙ্গে সঙ্গে কৃষকের বাঁচার স্বপ্নও মাটিতে মিশে যাক।



ফেসবুক কর্নার