June 4, 2026, 7:19 am
শিরোনাম :
ভাঙ্গায় পুলিশের অভিযানে ৮ পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতার জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে কালীগঞ্জে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল জমি বিরোধে হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ, শ্রীবরদীতে মানববন্ধনে বিচার দাবি ট্রাক্টরের ধাক্কায় প্রাণ গেল বৃদ্ধর , চালক আটক টাঙ্গাইলে মাদকসহ গ্রামবাসীর হাতে আটক কুখ্যাত মাদক কারবারি ছবুর মহাসড়ক যখন ধান শুকানোর চাতাল: রৌমারীতে বাড়ছে মৃত্যুফাঁদের ঝুঁকি কটিয়াদীতে এ.কে বাশার রতন হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে ফের হামলার অভিযোগ, দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জবি রোভার স্কাউট গ্রুপের আয়োজনে ৫৩৫তম স্কাউট ইউনিট লিডার বেসিক কোর্সের উদ্বোধন বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে ঝিনাইদহে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক আলোচনা ভোররাতের আগুনে পুড়ল হোটেল ও তেলের দোকান, ক্ষতি প্রায় ৫০ লাখ টাকা

জবিতে বিএনপিপন্থি দুই শিক্ষককে ছাত্রদলের হেনস্তার অভিযোগ

অভৈয়নগর প্রতিবেদক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালে বিএনপিপন্থি দুই শিক্ষককে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দাবি, শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেলের নেতৃত্বে তাদের দীর্ঘক্ষণ জেরা ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

ঘটনার শিকার দুই শিক্ষক হলেন– গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু হানিফ এবং সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শরীফুল ইসলাম।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সন্ধ্যা প্রায় সাতটার দিকে নবনিযুক্ত উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ওই দুই শিক্ষক ক্যাম্পাসে আসেন। এসময় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, যুগ্ম আহ্বায়ক জাফর আহমেদ ও সুমন সরদারের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জন নেতাকর্মী তাদের গতিরোধ করেন।

ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে ভুক্তভোগী শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবু হানিফ সরকার বলেন, সন্ধ্যা প্রায় সাতটার দিকে নবনিযুক্ত উপাচার্যের দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে আমি ক্যাম্পাসে উপস্থিত হলে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল আমার গতিরোধ করেন এবং অপ্রীতিকরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন- ছাত্রদল নেতা সুমন সরদার, জাফর সহ ২০ থেকে ২৫ জনের মত নেতাকর্মী।

তিনি বলেন, ‘তিনি (মেহেদী হাসান হিমেল) আমাকে উদ্দেশ্য করে অভিযোগ করেন যে, আমার সঙ্গে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং এ বিষয়ে তার কাছে বিভিন্ন ছবি রয়েছে। পাশাপাশি তিনি আমাকে দ্বৈত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন। আমি এ সংক্রান্ত কোনো প্রমাণ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন যে তার কাছে প্রমাণ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একপর্যায়ে আমার সঙ্গে থাকা এক সহকর্মী তাকে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তেজিত হয়ে তাকে অপমানজনক ভাষায় সম্বোধন করেন।

একপর্যায়ে তার ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং তার সঙ্গে থাকা এক বন্ধুর ফোন কেড়ে নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এসময় তাকে ধাক্কা দেওয়া এবং তার বন্ধুকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগও উঠেছে। পরে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু)-এর এজিএসের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সমাজকর্ম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘হিমেলসহ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা যখন অধ্যাপক ড. আবু হানিফের সঙ্গে অত্যন্ত অশোভন আচরণ করছিলেন, তখন আমি প্রতিবাদ জানাই। তারা আমার কাছ থেকেও ফোন কেড়ে নিতে চেয়েছিল। এমনকি আমাদের ‘জামায়াত’ বলেও ট্যাগ দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত বিব্রতকর। বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

এ বিষয়ে জকসুর এজিএস মাসুদ রানা জানান, অধ্যাপক আবু হানিফ আতঙ্কিত অবস্থায় উপাচার্য ভবনে এসে বিষয়টি তাকে জানালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জকসু সদস্য ও ছাত্রদল নেতা রিয়াসাল রাকিবের মাধ্যমে শিক্ষকের বন্ধুকে উদ্ধার করার ব্যবস্থা করেন।

অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্যারকে জকসুতে দেখেছি একটা রোল প্লে করতে আবার জাতীয় নির্বাচনে দেখেছি মিলন ভাইয়ের নির্বাচন করতে তাই তাকে বিষয়টি নিয়ে জানতে চেয়েছি- সে কোন পক্ষের। আমি মতাদর্শের বিরুদ্ধে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন বলেন, গতকাল ঘটনার পরই ড. হানিফ আমার কাছে এসেছিল। আমি শুনেছি এই ধরনের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এটি কোনোভাবে কাম্য নয়। আমরা সবাই মিলে মিলেমিশে থাকতে চাই। এবিষয়ে ওই শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দেবে বলেছে। ক্যম্পাস খুললে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।



ফেসবুক কর্নার