April 25, 2026, 7:50 pm
শিরোনাম :
দিরাইয়ে জন্ম নিবন্ধনে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ,ইউনিয়ন পরিষদের সচিব স্বপন তালুকদারের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে আনতে গিয়ে শ্বশুরবাড়ির নির্যাতনে যুবকের মৃত্যু, মামলা দায়ের রাজশাহীতে হেযবুত তওহীদ ছাত্র ফোরামের বিভাগীয় সমাবেশ ‘অপরাজনীতিতে আর একটি প্রাণও অপচয় নয়’ নাইক্ষ্যংছড়িতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ও বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস পালিত রায়গঞ্জে বাসচাপায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার দাওকান্দি কলেজে ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, অধ্যক্ষ ও প্রদর্শকের অপসারণ দাবি নন্দীগ্রামে খাস পুকুরে অবৈধ মাটি কাটায় অভিযান, এক্সক্যাভেটরের যন্ত্রাংশ জব্দ সাবেক জবি শিক্ষার্থী বুলেট বৈরাগী হত্যার বিচার দাবিতে জকসুর প্রতিবাদ টেকনাফে বিদেশি পিস্তল ও অস্ত্রসহ কুখ্যাত সন্ত্রাসী আটক লংগদুতে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা ও ফার্মাসিস্ট আটক

দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের হিসাবরক্ষকের স্বেচ্ছা অবসর

অভয়নগর প্রতিবেদক

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের হিসাবরক্ষক (অ্যাকাউন্টেন্ট) ম্রাসাথোয়াই মারমা দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি ঘিরে জেলায় আলোচনা ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা পরিষদের এক অফিস আদেশে জানানো হয়, তার নিজস্ব আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৪ অনুযায়ী তাকে ১ মার্চ ২০২৬ থেকে অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) ব্যতীত স্বেচ্ছায় অবসর প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী তিনি ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থসহ আনুষঙ্গিক সুবিধা পাবেন।
এর আগে, তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়। অভিযোগটি করেন গুইমারা উপজেলার ৫১ নম্বর ধুরুং এলাকার বাসিন্দা আনু মারমা।
অভিযোগে বলা হয়, দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসে তৃতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে যোগদান করলেও বর্তমানে ম্রাসাথোয়াই মারমা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, যা তার আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। অভিযোগকারীর দাবি, দুর্নীতির মাধ্যমেই তিনি এসব সম্পদ অর্জন করেছেন এবং সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন।
লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি খাগড়াছড়ি জেলায় নিজের মালিকানাধীন একাধিক নোহা গাড়ি ব্যবহার করেন এবং এলাকায় প্রভাব-প্রতিপত্তি গড়ে তুলেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ মারমা ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, একসময় ভূমিহীন থাকলেও বর্তমানে তার শত শত একর জমি রয়েছে। পানছড়ি উপজেলার লতিবান ইউনিয়নে প্রায় ৩৫০ একর জমিতে রাবার ও ফলজ বাগান, কংচাইরী পাড়া এলাকার মায়াবিনী লেকে প্রায় ৭০ একর জমি, খাগড়াছড়ি সদর এলাকায় জমি, গুইমারার যৌথখামার এলাকায় জমিসহ বিভিন্ন স্থানে তার সম্পত্তি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া তার স্ত্রী চিংস্রাউ মারমার নামে খাগড়াছড়ি বাজার এলাকায় ‘হিল হেভেন’ নামে ছয়তলা একটি হোটেল এবং গোলাবাড়ি এলাকায় ছয়তলা একটি আবাসিক ভবনের মালিকানার কথাও অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, নিজের নামে সম্পদ না রেখে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনের নামে সম্পত্তি নিবন্ধন করেছেন তিনি। পাশাপাশি চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন যুবকের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ম্রাসাথোয়াই মারমার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ থাকা অবস্থায় একজন সরকারি কর্মচারীর স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ এবং পরবর্তী আর্থিক সুবিধা প্রাপ্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



ফেসবুক কর্নার