April 25, 2026, 4:50 pm
শিরোনাম :
নাইক্ষ্যংছড়িতে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ও বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস পালিত রায়গঞ্জে বাসচাপায় প্রাণ গেল বৃদ্ধার দাওকান্দি কলেজে ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, অধ্যক্ষ ও প্রদর্শকের অপসারণ দাবি নন্দীগ্রামে খাস পুকুরে অবৈধ মাটি কাটায় অভিযান, এক্সক্যাভেটরের যন্ত্রাংশ জব্দ সাবেক জবি শিক্ষার্থী বুলেট বৈরাগী হত্যার বিচার দাবিতে জকসুর প্রতিবাদ টেকনাফে বিদেশি পিস্তল ও অস্ত্রসহ কুখ্যাত সন্ত্রাসী আটক লংগদুতে ইয়াবা সেবনের অভিযোগে ছাত্রদল নেতা ও ফার্মাসিস্ট আটক নিখোঁজের পর উদ্ধার ব্যাংক কর্মকর্তা শিশির, স্বস্তি ফিরছে পরিবারে ধামরাইয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থী হত্যা: গহনা লুটের অভিযোগে গ্রেপ্তার এক ব্রজলাল কলেজ কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন

শেরপুর গারো পাহাড়ে বন রক্ষায় মানববন্ধন : আগুন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ব্যানার স্থাপন

পি কে এস দীপন

শেরপুরের গারো পাহাড়সংলগ্ন সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে আগুন লাগানো রোধে ব্যতিক্রমধর্মী সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। শুক্রবার দিনব্যাপী “হাতির খবর ও সচেতনতা গ্রুপ”-এর উদ্যোগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সড়ক ও বনসংলগ্ন এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যানার স্থাপন করা হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নেয় বিউটি অব ঝিনাইগাতী, প্রশাখা, আপন শিক্ষা পরিবার, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম, গ্রিন ইনিশিয়েটিভ সিংগাবরুনাসহ একাধিক পরিবেশভিত্তিক সংগঠন। স্থানীয় তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি একটি সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগে পরিণত হয়।
শুষ্ক মৌসুমে গারো পাহাড়ের বনভূমি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। ঝরে পড়া পাতা, কমে যাওয়া মাটির আর্দ্রতা এবং শুকিয়ে যাওয়া জলাধারের কারণে সামান্য আগুনও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ সুযোগে কিছু অসচেতন ব্যক্তি বা দুষ্কৃতিকারী আগুন লাগালে তা ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ে রূপ নেয়।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মানবিক বার্তাও তুলে ধরা হয়। আয়োজক সংগঠনের অন্যতম সংগঠক রহমত আলী বলেন, “ঈদ আনন্দের সময়, তবে এই আনন্দ যেন বনের প্রাণীদের জন্য দুর্ভোগ না হয়। আমরা চাই মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত হোক।”
কর্মসূচির অংশ হিসেবে নালিতাবাড়ীর পানিহাটা চার্চ এলাকা থেকে ব্যানার স্থাপন শুরু হয়ে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে তা বিস্তৃত করা হয়।
বিউটি অব ঝিনাইগাতীর সভাপতি পারভেজ মিয়া বলেন, অসচেতনভাবে ফেলা সিগারেট বা ইচ্ছাকৃত আগুন দ্রুত পুরো বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, যা জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সভাপতি আরফান আলী বলেন, বন আগুনের কারণে খাদ্য সংকটে পড়ে হাতিসহ বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসে, ফলে মানুষ-প্রাণী সংঘাত বৃদ্ধি পায়।
পরিবেশ গবেষক শাহরিয়ার হোসেন শাহপরান বলেন, বন আগুন পুরো বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে—মাটির অণুজীব থেকে বড় প্রাণী পর্যন্ত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবেশকর্মী ওয়াসিম মিয়া মনে করেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।
স্থানীয় তরুণ লিয়াকত হোসেন বলেন, “আমাদের বন আমাদেরই রক্ষা করতে হবে।”
সংশ্লিষ্টরা জানান, বন আগুন দীর্ঘমেয়াদে জীববৈচিত্র্য, মাটির উর্বরতা, জলচক্র ও জলবায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই ঈদের আনন্দকে প্রকৃতি-বান্ধব রাখতে এমন সচেতনতামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



ফেসবুক কর্নার