June 7, 2026, 8:20 am
শিরোনাম :
মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবা-গাঁজাসহ আটক পুলিশ কনস্টেবল শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড ফসলি জমিতে বালু উত্তোলনের অভিযোগ, হরিণাকুন্ডুতে ক্ষোভ কৃষকদের দৌলতদিয়ায় পদ্মায় বাসডুবি: চালক, সুপারভাইজার ও হেলপার গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আজাদী মঞ্চের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা তুচ্ছ বিরোধে লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসা পরিচালকের ওপর হামলার অভিযোগ কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসনের বর্ণাঢ্য র‍্যালি বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক, ৪৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা ৭৬ লাখ টাকার সড়ক নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের ধামরাইয়ে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০

শেরপুর গারো পাহাড়ে বন রক্ষায় মানববন্ধন : আগুন প্রতিরোধে সচেতনতামূলক ব্যানার স্থাপন

পি কে এস দীপন

শেরপুরের গারো পাহাড়সংলগ্ন সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে আগুন লাগানো রোধে ব্যতিক্রমধর্মী সচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো। শুক্রবার দিনব্যাপী “হাতির খবর ও সচেতনতা গ্রুপ”-এর উদ্যোগে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সড়ক ও বনসংলগ্ন এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যানার স্থাপন করা হয়।
কর্মসূচিতে অংশ নেয় বিউটি অব ঝিনাইগাতী, প্রশাখা, আপন শিক্ষা পরিবার, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম, গ্রিন ইনিশিয়েটিভ সিংগাবরুনাসহ একাধিক পরিবেশভিত্তিক সংগঠন। স্থানীয় তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি একটি সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগে পরিণত হয়।
শুষ্ক মৌসুমে গারো পাহাড়ের বনভূমি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকে। ঝরে পড়া পাতা, কমে যাওয়া মাটির আর্দ্রতা এবং শুকিয়ে যাওয়া জলাধারের কারণে সামান্য আগুনও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ সুযোগে কিছু অসচেতন ব্যক্তি বা দুষ্কৃতিকারী আগুন লাগালে তা ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ে রূপ নেয়।
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে মানবিক বার্তাও তুলে ধরা হয়। আয়োজক সংগঠনের অন্যতম সংগঠক রহমত আলী বলেন, “ঈদ আনন্দের সময়, তবে এই আনন্দ যেন বনের প্রাণীদের জন্য দুর্ভোগ না হয়। আমরা চাই মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান নিশ্চিত হোক।”
কর্মসূচির অংশ হিসেবে নালিতাবাড়ীর পানিহাটা চার্চ এলাকা থেকে ব্যানার স্থাপন শুরু হয়ে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে তা বিস্তৃত করা হয়।
বিউটি অব ঝিনাইগাতীর সভাপতি পারভেজ মিয়া বলেন, অসচেতনভাবে ফেলা সিগারেট বা ইচ্ছাকৃত আগুন দ্রুত পুরো বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে, যা জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সভাপতি আরফান আলী বলেন, বন আগুনের কারণে খাদ্য সংকটে পড়ে হাতিসহ বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসে, ফলে মানুষ-প্রাণী সংঘাত বৃদ্ধি পায়।
পরিবেশ গবেষক শাহরিয়ার হোসেন শাহপরান বলেন, বন আগুন পুরো বাস্তুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে—মাটির অণুজীব থেকে বড় প্রাণী পর্যন্ত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবেশকর্মী ওয়াসিম মিয়া মনে করেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরি করা জরুরি।
স্থানীয় তরুণ লিয়াকত হোসেন বলেন, “আমাদের বন আমাদেরই রক্ষা করতে হবে।”
সংশ্লিষ্টরা জানান, বন আগুন দীর্ঘমেয়াদে জীববৈচিত্র্য, মাটির উর্বরতা, জলচক্র ও জলবায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই ঈদের আনন্দকে প্রকৃতি-বান্ধব রাখতে এমন সচেতনতামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



ফেসবুক কর্নার