
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের হেফাজত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামি আলী হোসেনকে শেষ পর্যন্ত আবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় আসামির স্বজনদের আটক করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ২নং পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের মেঘারগাঁও এলাকার বাসিন্দা আলী হোসেন (পিতা: মৃত হাবিব উল্লাহ) ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাকে গ্রেপ্তারের পর একপর্যায়ে তিনি হাতকড়াসহ পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যান।
এরপর কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযানের সময় আসামিকে ধরতে না পেরে তার স্বজনদের মধ্যে তাজুল ইসলামের মেয়ে খাদিজা ও সুমাইয়া, হাবিবুল্লাহর মেয়ে হাজেরা এবং আমির মিয়ার ছেলে মানিক মিয়াকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে একজন নারীর সঙ্গে ৪-৫ মাস বয়সী একটি শিশু থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
প্রায় তিন ঘণ্টা পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় আলী হোসেনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলে আটককৃতদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তাকে কোম্পানীগঞ্জ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে ওসি শফিকুল ইসলাম খান বলেন, আলী হোসেন একাধিক মামলার আসামি ও ওয়ারেন্টভুক্ত। গ্রেপ্তারের সময় তার স্বজনরা তাকে ছিনিয়ে নেয়, ফলে সে পালিয়ে যায়। পরে বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে ২০ মার্চ শাহ আরফিন এলাকায় কালা মিয়া নামের আরেক আসামি হাতকড়াসহ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে তাকে না পেয়ে তার ৭৮ বছর বয়সী মাকে থানায় নিয়ে আসা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য সুজিত কুমার দাস হাতকড়াটি উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
এ ধরনের ধারাবাহিক ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এমন ঘটনা আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।