
ভোলার লালমোহন উপজেলায় পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এতিম তিন বোনের ওপর দফায় দফায় হামলার অভিযোগ উঠেছে তাদের আপন চাচা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ও শুক্রবার (২৭ মার্চ) উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মনু হাওলাদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় এক বোন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন নারী সাংবাদিকও রয়েছেন।
আহতরা হলেন—মৃত আব্দুল হামিদের তিন মেয়ে কুলসুম (৩২), জিনাদ নুসাইবা (২৫) ও রাবেয়া (২২)। গুরুতর আহত কুলসুমকে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই যুগ আগে আব্দুল হামিদের মৃত্যুর পর তার পরিবার চরম অসহায় অবস্থায় পড়ে। উপার্জনের কেউ না থাকায় তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান। এ সুযোগে হামিদের ভাই ইসমাইল হাওলাদার তাদের বসতভিটা ও জমিজমা দখল করে ভোগ করতে থাকেন। প্রায় তিন বছর আগে সন্তানরা বড় হয়ে এলাকায় ফিরে স্থানীয়দের মাধ্যমে সালিশ করে নিজেদের জায়গায় ঘর তোলেন। এরপর থেকেই তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বৃহস্পতিবার কুলসুমের শিশুপুত্র পুকুরপাড়ে মাছ ধরতে গেলে ইসমাইল হাওলাদার তাকে মারধর করেন। শিশুটিকে রক্ষা করতে গেলে মা ও খালাদের ওপর হামলা চালানো হয়। ইসমাইল হাওলাদার, তার নাতি ইলিয়াস ও শফিকসহ একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে তাদের মারধর ও জখম করে।
পরদিন শুক্রবার এ ঘটনার প্রতিকার চাইলে পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটে। জীবন বাঁচাতে তিন বোন ঘরের দরজা বন্ধ করে দিলে অভিযুক্তরা যাতায়াতের পথে কাঁটার বেড়া দিয়ে তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে এবং পুকুরের ঘাটলা ভেঙে ফেলে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহত নুসাইবা ও কুলসুম অভিযোগ করে বলেন, তাদের ভাইকে প্রলোভন দেখিয়ে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে এবং এখন তাদেরও উচ্ছেদ করার চেষ্টা চলছে। তারা নিজেদের পৈতৃক ভিটায় শান্তিতে বসবাসের সুযোগ চান।
অভিযুক্ত ইসমাইল হাওলাদার জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, জমিটি তার ছেলে কামালের নামে দলিল করা রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে জমিটি তার দখলে থাকার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় লালমোহন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টাও চলছে।