কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়ী উপজেলার মধ্যবর্তী ধরলা নদীর ‘বাংটুর ঘাট’ পয়েন্টে একটি স্থায়ী সেতুর দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর ২ টায় নদীর দুই পাড়ের হাজার হাজার ভুক্তভোগী মানুষ স্কুল মাদরাসা ও কলেজের ছাত্রছাত্রীরা, এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যাতায়াতের চরম দুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে এখানে সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানান স্থানীয়রা।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সাথে ফুলবাড়ী, কুড়িগ্রাম সদর,একাংশ হলোখানা ও নাগেশ্বরী উপজেলার একাংশের সংযোগ স্থাপনের জন্য বাংটুর ঘাট একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। বর্তমানে এই রুটে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হলো নৌকা। বর্ষাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা পারাপার হতে হয়, আর শুষ্ক মৌসুমে দীর্ঘ বালুপথ পেরিয়ে চরে হাঁটতে হয় মাইলের পর মাইল।
মানববন্ধনে উপস্থিত স্থানীয়দের বক্তব্য:
আমজাদ হোসেন (৪৫), স্থানীয় কৃষক: “হামরা চরের মানুষ আবাদি ফসল নিয়া শহরত যাবার পাই না। একটা সেতু হইলে হামার সবজিগুলো ঠিক সময়ত বাজারত বেচবার পাইলাম হয়। কত সরকার আইল-গেল, হামার কপাল আর খুলিল না।”
আল আমিন , মাদ্রাসা শিক্ষার্থী কুড়িগ্রাম আলিয়া : তিনি বলেন”নদীর ওপারে যাতায়াত করতে গিয়ে আমাদের ক্লাস ধরতে দেরি হয়ে যায়। বর্ষায় নৌকা না থাকলে তো মাদ্রাসায় যাওয়াই বন্ধ থাকে। এখানে একটা সেতু হলে শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য শহর যাওয়া আমাদের জন্য অনেক সহজ হবে।”
রফিকুল ইসলাম, ব্যবসায়ী: “জরুরি কোনো রোগী হাসপাতালে নিতে হলে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতে করতে অনেক সময় পথেই অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। বাংটুর ঘাটে সেতু হওয়া এখন আমাদের বিলাসিতা নয়, বেঁচে থাকার অধিকার।”
সেখানে ফোনে কথা বলেন, কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক স্যার সোহেল হোসাইন কায়কোবাদ তিনি বলেন,বাংটুর ঘাটে ব্রিজ বাস্তবায়ন করতে হবে,এই লক্ষ্যে আমি দীর্ঘদিন কাজ করেছি ,এটা হচ্ছে প্রাণের দাবি, ততদিন পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে, যতদিন না আমরা এর কোন বাস্তবায়নের রূপ দেখতে পাই। আমরা সবার সাথে কথা বলতেছি, বাংটুর ঘাটে সেতুর ব্যাপারে,তিনি আরো অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেন।
বক্তারা জানান, বাংটুর ঘাটে সেতু নির্মিত হলে কুড়িগ্রাম সদরের সাথে ফুলবাড়ী ও নাগেশ্বরীর একাংশের দূরত্ব প্রায় ২৫থেকে ৩০ কিলোমিটার কমে আসবে। এতে করে শুধু সময় বাঁচবে না, উত্তর ধরলার কয়েক লাখ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মানববন্ধন শেষে স্থানীয় সচেতন মহল ও আন্দোলন কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, এর আগেও একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সেতুর বিষয় কথা বলা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তারা বর্তমান সরকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে দ্রুত এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানান।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে মানববন্ধন শেষ করা হয়