April 25, 2026, 6:45 am
শিরোনাম :
টেকনাফে মাদক মামলার আসামি রাসেল আটক বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস পালিত: নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ভেটেরিনারিয়ানদের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার আসনের চেয়ে পরীক্ষার্থী কম: দুশ্চিন্তার ভাঁজ শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের কপালে কম সুদে প্রি-শিপমেন্ট ঋণ সুবিধা চালু, রফতানিতে গতি ফেরানোর উদ্যোগ অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণে শাস্তির বিধান: নতুন সাইবার আইনে গোপনীয়তা সুরক্ষায় জোর আইনমন্ত্রীর কড়া বার্তা: বিচার ব্যবস্থায় অনৈতিকতা বরদাস্ত নয় পরিত্যক্ত স্কুল ভবনে মাদক আসর, আতঙ্কে মণিরামপুরের স্থানীয়রা জকসুকে দলীয় কর্মসূচিতে ব্যবহারের অভিযোগে প্রতিবাদ ছাত্রদল-সমর্থিত প্রতিনিধিদের টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ মানবপাচারকারী আটক অষ্টঘরিয়ায় পাপ্পু ক্রীড়া চক্রের ফুটবল টুর্নামেন্টে বাহাদিয়া ক্লাবের জয়

দস্যু আতঙ্কে শুরু সুন্দরবনে মধু আহরণ মৌসুম, উদ্বেগে মৌয়ালরা

আবু জাফর সাতক্ষীরা

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত মধু আহরণ মৌসুম।
বুধবার (১ এপ্রিল) শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট অফিস চত্বরে সকাল সাড়ে ১০টায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
মৌসুম শুরু হলেও স্বস্তিতে নেই মৌয়ালরা। বনের ভেতরে জলদস্যুদের পুনরায় তৎপরতার খবরে তাদের মাঝে তৈরি হয়েছে তীব্র আতঙ্ক। জীবিকার তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তারা বনে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক মো. মশিউর রহমান জানান, চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে ১১০০ কুইন্টাল মধু ও ৬০০ কুইন্টাল মোম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় এবার লক্ষ্যমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মৌয়ালের সংখ্যাও বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিটি মৌয়াল দলকে ১৪ দিনের জন্য পারমিট দেওয়া হবে, যেখানে মাথাপিছু ৫০ কেজি মধু ও ১৫ কেজি মোম সংগ্রহের অনুমতি থাকবে।
এদিকে মৌয়ালদের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। নৌঘাটে নৌকা প্রস্তুত করা ও প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষ। তবে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও দস্যু তৎপরতার খবরে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, পূর্বে আত্মসমর্পণকারী কয়েকটি জলদস্যু দল পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের মৌয়াল দলনেতা আব্দুর রাজ্জাক জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও তিনি ১২ সদস্যের দল নিয়ে বনে যাচ্ছেন। তবে দস্যু আতঙ্ক এবার বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে বুড়িগোয়ালিনী এলাকার মৌয়াল মো. শাহাজান সরদার বলেন, গত বছর বাঘের মুখোমুখি হয়ে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছিলেন। তার ভাষায়, “মধুর চাক খোঁজা আর বাঘের মুখোমুখি হওয়া—দুটোই সমান ঝুঁকিপূর্ণ।”
মৌয়াল কামরুল ইসলাম বলেন, “এবার শুধু বাঘ নয়, দস্যুদের ভয় নিয়েও বনে যেতে হচ্ছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মৌয়াল অভিযোগ করেন, বনের ভেতরে সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো মাথাপিছু ১০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করছে। একদিকে মহাজনের ঋণের চাপ, অন্যদিকে দস্যুদের ভয়—এই দ্বিমুখী চাপে অনেকেই এবার বনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান জানান, আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা পুনরায় সক্রিয় হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না এলেও পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এছাড়া কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা ও টহল জোরদার করা হয়েছে, যাতে মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
প্রাকৃতিক ও ভেজালমুক্ত হওয়ায় সুন্দরবনের মধুর চাহিদা দেশজুড়ে ব্যাপক। ফলে এ মৌসুমে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মৌয়ালদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।



ফেসবুক কর্নার