
পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের ঢাংগীপুকুরী দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ক্লাস বর্জনের ঘটনায় পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির কোনো শ্রেণিকক্ষে পাঠদান হয়নি। এমনকি এ সময় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে শিক্ষকরা একযোগে ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। ফলে পুরো বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা কেউ ক্লাসরুমে বসে, কেউ বারান্দায় ঘোরাফেরা করছে, আবার অনেকে মাঠে খেলাধুলায় ব্যস্ত সময় পার করছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের তদারকিতে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
অন্যদিকে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে তার কক্ষে একা বসে থাকতে দেখা যায়। অন্যান্য শিক্ষকরা পাশের কক্ষে অবস্থান করে অভ্যন্তরীণ বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও তা চালুর কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সহকারী শিক্ষক রতন রায়ের দাদি মারা যাওয়ার তিন দিন পর ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দিতে তিনি টিফিনের পর ছুটি চান। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তার আবেদন মঞ্জুর না করায় এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর জের ধরেই শিক্ষকরা ক্লাস বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।
সহকারী শিক্ষক রতন রায় বলেন, ছুটি চাওয়ায় প্রধান শিক্ষক তার সঙ্গে অসদাচরণ করেন এবং পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। শোকের সময় এমন আচরণে তিনি মর্মাহত হয়েছেন বলেও জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, মতিউর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই স্বেচ্ছাচারিতা করে আসছেন এবং তার আচরণে শিক্ষকরা অসন্তুষ্ট।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মতিউর রহমান বলেন, শিক্ষকরা কেন ক্লাসে যাচ্ছেন না, তা তিনি জানেন না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।