
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীর সঙ্গে প্রতারণা ও জোরপূর্বক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ শফিউল ইসলাম (৩৯) (বিসিএস)-কে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনিক মহলেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইনগত ও মানবিক কারণে ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। জানা গেছে, তার বাড়ি হিলির মনসাপুর এলাকায়।
ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্বামীর অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার সূত্রে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাকে নিজের সরকারি কোয়ার্টারে নিয়ে গিয়ে সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য চাপ দেন।
ভুক্তভোগী জানান, গত ৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে তিনি স্বামীকে তালাক দেন। পরবর্তীতে ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেন এবং একই দিনে তাদের বিয়ে হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করছিলেন।
তবে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ডাকযোগে প্রাপ্ত একটি নোটিশের মাধ্যমে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে তালাক দিয়েছেন। এতে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মেডিকেল রিপোর্ট মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হবে। অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বা চলমান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। আলামত সংগ্রহ, সাক্ষ্য গ্রহণ এবং মেডিকেল রিপোর্ট বিশ্লেষণ করা হবে। প্রয়োজন হলে আদালতের মাধ্যমে রিমান্ড আবেদন করা হতে পারে।
আইন অনুযায়ী, ধর্ষণ একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ অনুযায়ী এ অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। এছাড়া দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৩৭৬-এও এ সংক্রান্ত শাস্তির বিধান রয়েছে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম ও ব্যক্তিগত আচরণসংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ২০১৭ সালে নবাবগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় এক শিক্ষিকার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ওঠে। ২০২০ সালে বগুড়ার কাহালু উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক বিতর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে বিরল উপজেলায় কর্মরত থাকাকালেও নারী সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে আসে।
এছাড়া সরকারি গাড়ির ব্যবহার ও জ্বালানি খাতে অনিয়মের অভিযোগে ২০২৪ সালে তাকে হাকিমপুর উপজেলায় বদলি করা হয়। হাকিমপুরে যোগদানের পরও কোয়ারেন্টাইন স্টেশন উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ভাতা বিতরণ, গরু বিতরণ এবং সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলোর চূড়ান্ত তদন্ত ফলাফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত নন—এই নীতিও প্রযোজ্য থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করাই এখন প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।