
ভূমধ্যসাগরে মানবিক বিপর্যয়ে নিহত সুনামগঞ্জের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (০৫ এপ্রিল) জেলার দিরাই, জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার শোকাহত পরিবারগুলোর কাছে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সমবেদনা ও উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেন স্থানীয় সংসদ সদস্যরা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিমউদ্দিন আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত সদস্য সাবেক ছাত্রদল নেতা অ্যাডভোকেট আব্দুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ বলেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন। তিনি সবাইকে অবৈধভাবে দালালের মাধ্যমে বিদেশ না যাওয়ার আহ্বান জানান এবং এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, উন্নত জীবনের আশায় অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন, যা পরিণামে এমন মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দেয়। তিনি ধৈর্য ধরে বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার আহ্বান জানান এবং সরকার জি-টু-জি পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে বলে উল্লেখ করেন।
সংসদ সদস্য কলিমউদ্দিন আহমেদ জানান, জগন্নাথপুর, দিরাই ও দোয়ারাবাজার উপজেলার মোট ১২ জন বাসিন্দা এ ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগর এলাকায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের তিন উপজেলার ১২ জন রয়েছেন।
দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে অনেকেই প্রাণ হারান। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, পাচারকারীদের নির্দেশে নিহতদের মরদেহ সাগরে ফেলে দেওয়া হয়।