April 23, 2026, 1:06 pm
শিরোনাম :
দেড় মাস ধরে আদালত চত্বরে ময়লার স্তূপ, দুর্ভোগে বিচারপ্রার্থী ও ব্যবসায়ীরা নলডাঙ্গায় আগুনে কৃষকের ৮টি ছাগল পুড়ে ছাই, ক্ষতি প্রায় ২ লাখ টাকা প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারল না শিক্ষার্থী খুলনায় গুপ্ত রাজনীতির বিরুদ্ধে ছাত্রদলের দেয়াললিখন লংগদুতে প্রাথমিক বিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত ঝিনাইদহ: কৃষি ও শিক্ষায় মারাত্মক প্রভাব নকল-ভেজাল পণ্যে দখল বাজার: জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ ডিভোর্সের পরও একসঙ্গে বসবাসের অভিযোগে নাসিরনগরে মাদ্রাসা সুপারকে ঘিরে বিতর্ক নরসিংদীর রায়পুরায় মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ১, কারাদণ্ড শহরে আলোক অপচয়, গ্রামে লোডশেডিং—বিপাকে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা

রিজার্ভ ও জ্বালানি সংকটে চাপে অর্থনীতি—বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতা বাড়ছে, সংস্কারের তাগিদ

অভয়নগর প্রতিবেদক

দেশের অর্থনীতি বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হ্রাস, জ্বালানি সংকট এবং সামষ্টিক ভারসাম্যহীনতার কারণে একটি জটিল সময় পার করছে। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর জ্বালানি খাত ও বৈদেশিক লেনদেনের চাপ অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার জ্বালানি আমদানির জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিকল্প উৎস অনুসন্ধান এবং বৈদেশিক অর্থায়ন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। জানা গেছে, জ্বালানি ও এলএনজি আমদানি সচল রাখতে ২০০ কোটি ডলারের বেশি বৈদেশিক অর্থায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির অনুমতি চাওয়ার বিষয়টি পরিস্থিতির গভীরতাকেই ইঙ্গিত করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের সামান্য ওঠানামাও সরাসরি অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলোতেও চাপ স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪.৭ থেকে ৪.৯ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে, যা আগের তুলনায় কম হলেও পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়। তবে মূল্যস্ফীতি এখনও ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে অবস্থান করায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতির বড় ঝুঁকি এখন ব্যাংক খাত ও সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনায়। সরকার অভ্যন্তরীণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যয় মেটাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্য ঠিক রাখতে না পারলে ভবিষ্যতে চাপ আরও বাড়তে পারে।
টাকার মান কমে যাওয়া এবং আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসা ও শিল্প খাতেও চাপ সৃষ্টি হয়েছে। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধীরগতি এবং বিনিয়োগ কমে যাওয়াও অর্থনীতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য। বিশেষ করে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র হতে পারে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি সংবেদনশীল পর্যায়ে অবস্থান করছে, যেখানে স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারই ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা নির্ধারণ করবে।



ফেসবুক কর্নার