April 24, 2026, 11:04 pm
শিরোনাম :
আইনমন্ত্রীর কড়া বার্তা: বিচার ব্যবস্থায় অনৈতিকতা বরদাস্ত নয় পরিত্যক্ত স্কুল ভবনে মাদক আসর, আতঙ্কে মণিরামপুরের স্থানীয়রা জকসুকে দলীয় কর্মসূচিতে ব্যবহারের অভিযোগে প্রতিবাদ ছাত্রদল-সমর্থিত প্রতিনিধিদের টেকনাফে বিদেশি পিস্তলসহ মানবপাচারকারী আটক অষ্টঘরিয়ায় পাপ্পু ক্রীড়া চক্রের ফুটবল টুর্নামেন্টে বাহাদিয়া ক্লাবের জয় কলেজের শিক্ষিকাকে পেটানো ও ভাঙচুরের ঘটনা’য় বিএনপি নেতাকে-বহিষ্কার ওয়ারিশ গোপন করে জমি বিক্রির অভিযোগ, কালীগঞ্জে প্রতারণার শিকার ক্রেতা আধুনিকতার পিঠে মধ্যযুগ: রৌমারীতে জ্বালানি সংকটে ফিরছে ‘ঢেঁকি কল’ নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা রুটে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডিভাইডারে উঠে আহত বহু যাত্রী আইডি যাচাইয়ে ন্যায্যমূল্যে ডিজেল পেয়ে স্বস্তিতে চুয়াডাঙ্গর কৃষকরা

কুষ্টিয়ায় সরকারি সার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ, ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাড়ছে ক্ষোভ

তানভীর আজাদ স্টাফ রিপোর্টার কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার কুমারগাড়ায় বিসিআইসি ডিলার আমজাদ ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে সরকারি সার গোপনে অন্য ইউনিয়নের খুচরা দোকানে সরবরাহের অভিযোগ ওঠার পরও দীর্ঘ সময় পার হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহলে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, গত ৯ মার্চ ভোরে ট্রলিযোগে আমজাদ ট্রেডার্স থেকে ইউরিয়া সার নিয়ে যাওয়া হয় আলামপুর ইউনিয়নের ভাদালিয়া বাজারের একটি খুচরা দোকানে, যা বিসিআইসি’র নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। নিয়ম অনুযায়ী ডিলারদের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের কাছে সার সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে তা ভিন্ন খাতে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, বটতৈল ইউনিয়নের অনুমোদিত ডিলার হয়েও আমজাদ ট্রেডার্স অন্য ইউনিয়নে সার সরবরাহ করছে। সংশ্লিষ্ট এক খুচরা ব্যবসায়ী ডিলারের কাছ থেকে সরাসরি সার নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন, যা একটি অনিয়মিত সরবরাহ চক্রের ইঙ্গিত দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে ডিলার মালিক রাজু বলেন, বিক্রি কম থাকায় চাহিদা অনুযায়ী কিছু স্থানে সার সরবরাহ করা হয়েছে, যা নিয়মের মধ্যে পড়ে না বলেও তিনি স্বীকার করেন।
সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রূপালী খাতুন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র ডিলারদের কাছ থেকে বড় পরিমাণে সার সংগ্রহ করে খুচরা বাজারে বিক্রি করছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা নির্ধারিত দামে সার না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, নিয়ম ভেঙে বড় চালান সরবরাহ নতুন কিছু নয়, বরং এটি নিয়মিত ঘটনা। যা সামনে এসেছে, তা পুরো চিত্রের একটি ছোট অংশ মাত্র।
বিসিআইসি’র নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত এলাকার বাইরে সার সরবরাহ, অতিরিক্ত মজুদ কিংবা খুচরা বিক্রেতার কাছে সরাসরি বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। প্রমাণিত হলে ডিলারের লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
এ অবস্থায় কৃষকদের আশঙ্কা, ভর্তুকি দিয়ে সরবরাহ করা সরকারি সার যদি প্রকৃত কৃষকের কাছে না পৌঁছে, তবে কৃষি খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সার বিতরণ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছে।



ফেসবুক কর্নার