May 14, 2026, 9:35 am
শিরোনাম :
শ্যামগঞ্জ বাজারে আমিনুল সরকারের বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ভয়াবহ চিত্র অতিরিক্ত সোডা ব্যবহার, নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন—জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকির অভিযোগ ইপিজেডে রাস্তা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আতঙ্কে হকার-শ্রমিকরা গর্জনিয়ায় পুলিশের অভিযানে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ঝিকরগাছায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নৈশপ্রহরীর মৃত্যু যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: রাঙামাটিতে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কুড়িগ্রামে খাদে পড়ার উপক্রম স্কুলবাস, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিক্ষার্থীরা শিবচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় স্থবির রৌমারী, ১৮৪ মিমি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন সরকারের উন্নয়ন বার্তা পৌঁছে দিতে গুইমারায় তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং ইবি থিয়েটারের নতুন নেতৃত্বে প্রণয় ও জ্যোতি

পুরুষ নির্যাতন ও আইনগত শূন্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

সাদমান হাসান স্টাফ রিপোর্টার

বাংলাদেশে পুরুষ নির্যাতন ও যৌন সহিংসতা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে জনমত তৈরি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এ সংক্রান্ত আলোচনা বাড়লেও বিষয়টি এখনও প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা, আইনি কাঠামো এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সীমিত গুরুত্ব পাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনগুলো তুলনামূলকভাবে সুসংহত হলেও পুরুষ ভিকটিমদের ক্ষেত্রে আইনি স্বীকৃতি ও সুরক্ষা স্পষ্ট নয়। ফলে অনেক ঘটনা রিপোর্টিংয়ের বাইরে থেকে যাচ্ছে, যা প্রকৃত চিত্র মূল্যায়নকে কঠিন করে তুলছে।
তবে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত কিছু পরিসংখ্যান—যেমন প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক পুরুষ যৌন সহিংসতার শিকার হওয়ার দাবি—স্বতন্ত্রভাবে যাচাইযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। তাদের মতে, নির্ভরযোগ্য জাতীয় ডেটা ও প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণার অভাবে এ ধরনের তথ্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং বিষয়টির গুরুত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।
আইনবিদদের একটি অংশ মনে করেন, বাংলাদেশের ধর্ষণ আইন ঐতিহাসিকভাবে নারী-কেন্দ্রিক হওয়ায় পুরুষ বা অন্যান্য লিঙ্গের ভিকটিমদের জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তারা জেন্ডার-নিউট্রাল আইন প্রণয়নের বিষয়ে আলোচনা শুরু করার ওপর জোর দিচ্ছেন। অন্যদিকে, মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, যেকোনো আইনি সংস্কার হতে হবে তথ্যভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ভিকটিমকেন্দ্রিক।
সমাজবিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেন, বিষয়টিকে নারী বনাম পুরুষ দ্বন্দ্ব হিসেবে উপস্থাপন করলে মূল সমস্যার সমাধান আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বরং সব ধরনের নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমানভাবে সোচ্চার হওয়া এবং ভুক্তভোগীদের জন্য নিরাপদ রিপোর্টিং ও সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।
নীতিনির্ধারক মহলের কাছে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে দাবি—দেশে যৌন সহিংসতা ও নির্যাতনবিরোধী আইনগুলোকে আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে পুনর্বিবেচনা করা হোক, যাতে লিঙ্গ নির্বিশেষে সকল নাগরিক সমান সুরক্ষা পায়।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, গবেষণাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ এবং আইনি সংস্কারের সমন্বিত উদ্যোগই পারে এ সংবেদনশীল ইস্যুতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে।



ফেসবুক কর্নার